পোষ্যকে মারধরের মাশুল! বরযাত্রীর কীর্তিতে মণ্ডপেই হাত ভাঙল কনের, ভেস্তে গেল বিয়ে

পোষ্যকে মারধরের মাশুল! বরযাত্রীর কীর্তিতে মণ্ডপেই হাত ভাঙল কনের, ভেস্তে গেল বিয়ে

একটি আনন্দের অনুষ্ঠান নিমেষের মধ্যেই রূপ নিল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। পোষ্য কুকুরকে মারধর করাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুরে বিয়ের মণ্ডপ পরিণত হলো রণক্ষেত্রে। সংঘর্ষের জেরে আহত হয়ে কনের হাত ভেঙে যায়। এই ঘটনার পর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়ে কনে বরপক্ষকে ফিরিয়ে দেন এবং বিয়ে বাতিল করেন।

ঠিক কী ঘটেছিল? স্থানীয় সূত্রের খবর, ১৯ বছর বয়সী তনু কেশরওয়ানি ও ২৫ বছর বয়সী সুমিত কেশরওয়ানির বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ভোররাত চারটে নাগাদ মণ্ডপের পাশে থাকা কনের পোষ্য কুকুরটি ঘেউ ঘেউ শুরু করে। অভিযোগ ওঠে, কুকুরের ডাক শুনে বিরক্ত হয়ে বরযাত্রীদের মধ্য থেকে এক আত্মীয় কুকুরটিকে সজোরে আঘাত করেন। নিজের প্রিয় পোষ্যের ওপর এই নির্যাতন দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কনে ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

কথা কাটাকাটি থেকে রক্তারক্তি শুরুতে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলেও দ্রুত তা হিংসাত্মক আকার ধারণ করে। লাঠি এবং প্লাস্টিকের চেয়ার নিয়ে দুই পক্ষ একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হট্টগোল ও মারামারি দেখে নিমন্ত্রিত অতিথিরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। এই ঘটনায় কনে তনু ও তাঁর ভাই ঋষভসহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হন। মারামারির মধ্যে কনের একটি হাত ভেঙে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

কনের সাহসী পদক্ষেপ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ফিরে এসে কনে তনু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি আর এই বিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবেন না। সকলের সামনেই বরপক্ষের দেওয়া সমস্ত গয়না ফেরত দিয়ে তিনি সুমিতের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সুমিত ও তনুর মধ্যে আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাঁরা আর্য সমাজ মন্দিরে আইনি বিয়েও করেছিলেন। কিন্তু সামাজিক অনুষ্ঠানের দিন বরপক্ষের এই আচরণের কারণে ভালোবাসার সম্পর্ক এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল। এই ঘটনাটি এলাকা জুড়ে ব্যাপক চর্চার সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *