‘একজনকে বিয়ে করব, অন্যজনকে সারারাত নাচাব!’ দুই নৃত্যশিল্পীকে কুৎসিত হেনস্থার অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার টিটিই
গোবরডাঙা ও বনগাঁ: ভেন্ডার কামরায় ভুল করে উঠে পড়ায় দুই নৃত্যশিল্পীকে চরম মানসিক হেনস্থা ও কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার করা হলো রেলের টিকিট পরীক্ষক (TTE) প্রশান্ত নাথকে। অভিযুক্ত টিটিই-র বিরুদ্ধে সাধারণ ধারার পাশাপাশি নাবালিকাকে হেনস্থার কারণে পকসো (POCSO) আইনের ১২ নম্বর ধারা সহ একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল সে দিন? ঘটনাটি গত ১৮ জুলাইয়ের। রানাঘাটে নাচের ক্লাসে যাওয়ার জন্য টিকিট কেটে গোবরডাঙা স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠেন এক তরুণী ও এক নাবালিকা নৃত্যশিল্পী। তাড়াহুড়োর কারণে ভুলবশত তাঁরা ট্রেনের ভেন্ডার কামরায় উঠে পড়েন। ট্রেনটি বনগাঁ স্টেশনে পৌঁছাতেই তাঁদের পথ আটকান সেখানে দায়িত্বরত টিটিই প্রশান্ত নাথ।
অভিযোগ, ভুল স্বীকার করা সত্ত্বেও তাঁদের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা জরিমানা দাবি করা হয় এবং একটি ঘরে আটকে রেখে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করা হয়। হেনস্থার মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, ওই টিটিই তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেন— “একজনকে বিয়ে করব, আর একজনকে সারারাত নাচাব!”
শুধু তাই নয়, খবর পেয়ে ফোন করা তরুণীদের অভিভাবক এবং নাচের শিক্ষিকাকেও মারাত্মক অশালীন ভাষায় অপমান করেন অভিযুক্ত টিটিই।
প্রতিবাদ ও পুলিশি পদক্ষেপ: এই কুরুচিকর ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেন স্থানীয় নৃত্যশিল্পী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকেরা। শতাধিক নৃত্যশিল্পী অভিযুক্ত টিটিই-র ছবি হাতে নিয়ে বনগাঁ জিআরপি থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পর রেল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত প্রশান্ত নাথকে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করেছিল।
তদন্তে নেমে বুধবার রাতে সোনারপুর জিআরপি এলাকা থেকে বিড়ার বাসিন্দা প্রশান্ত নাথকে আটক করে বনগাঁ জিআরপি থানার পুলিশ। ওসি নয়ন মৈত্রের নেতৃত্বে রাতে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর অপরাধ স্বীকার করায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার ধৃত টিটিই-কে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করেছে পুলিশ।