‘স্বৈরাচারী দল!’, মাত্র ৫ মাসেই মোহভঙ্গ, আইএসএফ ছেড়ে বিস্ফোরক আরাবুল ইসলাম

আইএসএফ-এ (ISF) যোগ দেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন ভাঙড়ের বিতর্কিত ও দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলাম। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি দল ছাড়ার কথা নিশ্চিত করেন। দলে ‘স্বৈরাচার ও একনায়কতন্ত্র’ চলছে—এই গুরুতর অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আরাবুল লেখেন, দলটির তথাকথিত লুম্পেন বাহিনীর হাতে ভাঙড় জুড়ে মানুষের ওপর অত্যাচার ও অনাচার চালানো হচ্ছে। এরই প্রতিবাদে তিনি আইএসএফ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ইতি টেনে আইএসএফ-এ যোগ দিয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম। ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি। নির্বাচনের পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকটাই নীরব ছিলেন এই প্রাক্তন বিধায়ক। হঠাৎ করেই শুক্রবার সরব হয়ে দলত্যাগের মতো বড় পদক্ষেপ নিলেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীনও একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছিলেন আরাবুল। শিক্ষকের দিকে জলের জগ ছুড়ে মারা থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া—নানা ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি। প্রাক্তন দলীয় সহকর্মী শওকত মোল্লার সাথে সংঘাত চরমে পৌঁছালে তিনি শেষ পর্যন্ত নওশাদ সিদ্দিকির হাত ধরে আইএসএফ-এ নাম লিখিয়েছিলেন।
মাত্র ৫ মাসের ব্যবধানে আইএসএফ ছাড়ার পর এবার তাঁর রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের বড় অংশের প্রশ্ন—তিনি কি পুনরায় তৃণমূলে ‘ঘরওয়াপসি’ করবেন, নাকি আপাতত রাজনীতির ময়দান থেকে দূরত্ব বজায় রাখবেন?