৫ মাসেই মোহভঙ্গ! ‘স্বৈরাচারী’ তকমা দিয়ে ISF ছাড়লেন ভাঙড়ের আরাবুল

মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর প্রতি তীব্র মোহভঙ্গ ঘটল ভাঙড়ের বিতর্কিত ও দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলামের। দলের বিরুদ্ধে চরম একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরাচারের অভিযোগ তুলে শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে পদত্যাগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন তিনি। ভাঙড়ের প্রাক্তন এই নেতার এমন সিদ্ধান্তে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আরাবুল ইসলাম সরাসরি দাবি করেন, আইএসএফ-এর স্বৈরাচারী মানসিকতা ও একনায়কতান্ত্রিক পরিচালনার কারণেই তিনি চরম ধিক্কার জানিয়ে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, আইএসএফ-এর নাম ভাঙিয়ে একদল ‘লুম্পেন বাহিনী’ ভাঙড় জুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর ক্রমাগত অত্যাচার চালাচ্ছে। এই অন্যায় ও অনাচারের প্রতিবাদেই তিনি দল থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন বলে স্পষ্ট জানান।
উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দীর্ঘদিনের পুরোনো দল তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে আইএসএফ-এ যোগ দিয়েছিলেন আরাবুল। দলটির টিকিটে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি। নির্বাচনের পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। অবশেষে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে পদত্যাগের এমন বিস্ফোরক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও চমকে গেছেন।
আরাবুলের দলত্যাগের পর থেকেই রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে—তবে কি ফের ‘ঘরওয়াপসি’ হতে চলেছে তাঁর? তিনি কি আবার পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে যাবেন? যদিও নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আরাবুল নিজে এখনও মুখ খোলেননি, তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহল তাঁর পরবর্তী চালের দিকে কড়া নজর রাখছে।
প্রসঙ্গত, আরাবুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবন বরাবরই বিতর্ক ও রোমাঞ্চে ভরা। তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীন কলেজে এক অধ্যাপককে জলের জগ ছুড়ে মারার অভিযোগে তাঁকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল, যদিও পরে তা তুলে নেওয়া হয়। এছাড়া ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার সঙ্গে তাঁর ঠান্ডা লড়াই রাজনৈতিক অঙ্গনে সর্বজনবিদিত। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে অশান্তিতে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতারও হতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু প্রতিবারই আইনি বাধা কাটিয়ে জমকালোভাবে কামব্যাক করেছেন তিনি। এখন দেখার বিষয়, আইএসএফ পর্ব চুকিয়ে ভাঙড়ের এই চর্চিত নেতা ভবিষ্যতে রাজনীতিতে কী নতুন মোড় আনেন।