অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে বাংলাজুড়ে চরম বিক্ষোভ, অগ্নিমিত্রার সামনেই ফুঁসে উঠলেন মহিলারা

অন্নপূর্ণা যোজনার প্রাপ্য আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। ২০ অগস্টের মধ্যে যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাওয়ার কথা থাকলেও, অসংখ্য আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা ঢোকেনি। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবারও জেলায় জেলায় নারী বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। বিরাটিতে রেল অবরোধের পাশাপাশি একাধিক জায়গায় জাতীয় ও রাজ্য সড়ক স্তব্ধ করে দেওয়া হয়।
পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রশাসনিক ভবনে একটি বৈঠকের সময় বিক্ষোভকারী নারীরা সেখানে পৌঁছে তাঁদের অসন্তোষ উগরে দেন। এ সময় রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে এসে তাঁদের সাথে কথা বলেন। প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ শুনে মন্ত্রী জানান, উপভোক্তারা যেন এসডিও বা বিডিও অফিসে নাম, ফোন নম্বর ও এনরোলমেন্ট নম্বর জমা দেন। একই সাথে জেলাশাসক বীজিন কৃষ্ণাকে নির্দেশ দেন একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করতে।
রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষোভের একই চিত্র ধরা পড়েছে:
- জলপাইগুড়ি: ৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক আটকে ময়নাগুড়ি ও লাটাগুড়ি এলাকায় কয়েকশো নারী দেড় ঘণ্টা ধরে পথ অবরোধ করেন।
- বালুরঘাট: অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সঠিক সার্ভে করেননি—এই অভিযোগে ময়ামারি কেন্দ্রের এক কর্মীকে তালা বন্দি করে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
- হুগলি ও হাওড়া: তারকেশ্বর পুরসভা এবং বাগনান ২ নম্বর ব্লকের সামনে মহিলারা রাস্তা অবরোধ করে সরব হন। তাঁদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে আবেদন করা সত্ত্বেও অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েনি এবং আবেদনের বর্তমান স্ট্যাটাসও জানা যাচ্ছে না।
- পূর্ব মেদিনীপুর: ব্লকে ব্লকে জাতীয় ও রাজ্য সড়ক অবরোধ চলায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ প্রশাসনকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রতিটি এলাকাতেই পুলিশ বাহিনীকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়। প্রশাসনের দ্রুত আশ্বাসের পরেই বিভিন্ন জায়গায় সাময়িকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।