১০ দিনের আলটিমেটাম! ইন্দাস কাণ্ডে সিজেপির ডেডলাইন, বাঁকুড়ার ডিএম দফতর ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

বাঁকুড়া:
ইন্দাসের বিতর্কিত ঘটনায় এবার সরাসরি বাঁকুড়ার জেলাশাসকের দ্বারস্থ হলেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিনিধিদল। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাঁদের ৬ দফা দাবি পূরণ না হলে বাঁকুড়ার জেলাশাসক (DM) দপ্তর ঘেরাও করা হবে— এই চরম হুঁশিয়ারি আগেই দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার সেই বার্তার কথা মনে করাতেই নিহিত পরিবারের সদস্য আব্দুল হাফিজ়কে সঙ্গে নিয়ে জেলাশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সিজেপি নেতৃত্ব। সেই সঙ্গে গোটা ঘটনার পুলিশি তদন্তের গতি নিয়েও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের প্রতিনিধিরা।
ঠিক কী ঘটেছিল?
গত ১৩ অগস্ট রাতে ইন্দাস থানার করিশুণ্ডা গ্রামে সিজেপি কর্মী আব্দুল হাফিজ়ের বাড়িতে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ, আব্দুল হাফিজ়কে মারধর করার সময় তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তাঁর বাবা মহম্মদ মাফিক। দুষ্কৃতীদের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত হয়ে পরবর্তীতে মাফিকের মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় ১৬ অগস্ট নিহতের স্ত্রী হাসিনা বেগম লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরপরই ৬ দফা দাবি তুলে মাঠে নামে ককরোচ জনতা পার্টি। তাঁদের প্রধান দাবিগুলি হলো:
- ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত।
- সব অভিযুক্তের অবিলম্বে গ্রেফতার।
- হাফিজ়ের পরিবারের জন্য স্থায়ী নিরাপত্তার বন্দোবস্ত।
- নিহত মহম্মদ মাফিকের স্মৃতিতে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি:
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তে নেমে মূল অভিযুক্ত ৫ জনসহ মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং হাফিজ়ের সুরক্ষায় বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে নিহতের নামে স্কুল গড়ার দাবির বিষয়ে প্রশাসন কতটা উদ্যোগী হয়েছে, তা জানতেই এ দিন হাফিজ়কে নিয়ে ডিএম দপ্তরে যান সিজেপি প্রতিনিধিরা।
জেলাশাসকের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর সিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ১০ দিনের মধ্যে সমস্ত দাবি না মানা হলে তাঁরা আন্দোলন ও ঘেরাওয়ের পথেই হাঁটবেন। তদন্তের বর্তমান গতিধারা নিয়ে তাঁরা যে একেবারেই সন্তুষ্ট নন, তা-ও প্রশাসনিক কর্তাদের সামনে পরিষ্কার করে দিয়েছেন দলীয় নেতৃত্ব।