১০৫ বয়সে অবিশ্বাস্য মোড়, জেলের অন্ধকার থেকে অবশেষে মুক্ত মালদহের শতায়ু বৃদ্ধ

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে মুক্তির নিঃশ্বাস ফেললেন মালদহের ১০৫ বছর বয়সী রসিকচন্দ্র মণ্ডল। ১৯৮৮ সালে পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে নিজের ভাই সুরেশ মণ্ডলকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে নিম্ন আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ বন্দিজীবন কাটানোর পর ২০১৮ সালে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর সাজা মকুবের আবেদন খারিজ করে দিলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যা এবং জীবনপ্রদীপের প্রান্তসীমায় পৌঁছে শেষ পর্যন্ত আদালতের অনুকম্পা প্রার্থনাই ছিল তাঁর প্রধান ভরসা।
সর্বোচ্চ আদালত রসিকচন্দ্রের চরম শারীরিক অবস্থা এবং ১০৫ বছর বয়স বিবেচনা করে এক ঐতিহাসিক ও মানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ শুক্রবার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, বৃদ্ধকে আর জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ফিরে যেতে হবে না। এর আগে ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মতামত চাওয়া এবং ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুরের পর এবার তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বাকি সাজা পুরোপুরি মকুব করল দেশের শীর্ষ আদালত। ফলে জীবনের একেবারে শেষ পর্বে এসে সম্পূর্ণ আইনি জটিলতামুক্ত হয়ে স্বাধীন আকাশের নিচে বাকি দিনগুলো কাটানোর সুযোগ পেলেন এই শতায়ু বৃদ্ধ।