স্বাস্থ্যসাথী না আয়ুষ্মান? এবার কাটল বিভ্রান্তি! পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য ভবনের নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ

স্বাস্থ্যসাথী না আয়ুষ্মান? এবার কাটল বিভ্রান্তি! পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য ভবনের নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ

কলকাতা: রাজ্যে একই সাথে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত’—দুটি প্রকল্প চালু থাকায় রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া নিয়ে হাসপাতালগুলিতে বেশ কিছু বিভ্রান্তি দেখা যাচ্ছিল। সেই সমস্যার সমাধান করতে এবং রোগী ভর্তির প্রক্রিয়াকে সুনির্দিষ্ট করতে একটি নয়া স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) জারি করল রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো স্বাস্থ্যসাথী কার্ডধারী রোগী হাসপাতালে এলে প্রথমেই পরীক্ষা করে দেখা হবে যে তিনি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের যোগ্য কি না। যদি তাঁর নামে ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান কার্ড ইস্যু হয়ে থাকে, তবে প্রথম পছন্দ হিসেবে আয়ুষ্মান ভারতের মাধ্যমেই চিকিৎসার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

কখন মিলবে স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা? যদি আয়ুষ্মান ভারতের ‘ট্রানজ্যাকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (TMS) পোর্টালে কোনো প্রযুক্তিগত গোলযোগ বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দেয়, সেক্ষেত্রেই কেবল স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা করা যাবে। তবে তার জন্য হাসপাতালকে আয়ুষ্মান পোর্টালে সমস্যার বিবরণ ও স্ক্রিনশট আপলোড করে ‘প্রসিড টু স্বাস্থ্যসাথী’ অপশন বেছে নিতে হবে। পর্যাপ্ত কারণ না দেখিয়ে সরাসরি স্বাস্থ্যসাথীতে চিকিৎসা করা যাবে না। আর যেসব রোগী আয়ুষ্মান ভারতের যোগ্য নন, তাঁরা সরাসরি স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পাবেন।

অনুমোদন ও ই-কেওয়াইসি নিয়ম:

  • রোগীর নাম আয়ুষ্মানের তালিকায় থাকা সত্ত্বেও যদি কার্ড অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকে, তবে আপাতত স্বাস্থ্যসাথীর অধীনে চিকিৎসা চলবে।
  • ই-কেওয়াইসি (e-KYC) আসাম্পূর্ণ থাকলে তা দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা করতে হবে এবং ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন করানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
  • যাঁদের নাম দুটি তালিকার কোনোটিতেই নেই, তাঁদের জন্য ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’র ফর্ম পূরণ করিয়ে স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমেই চিকিৎসা করা হবে।

স্বাস্থ্য ভবন ও বেসরকারি হাসপাতালের প্রতিক্রিয়া: রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনের মতে, দুটি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের মধ্যে সঠিক সমন্বয় নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশিকা। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিংহোম’। তাঁদের বক্তব্য, এই নতুন এসওপি-র ফলে হাসপাতাল এবং রোগী উভয় পক্ষের বিভ্রান্তিই দূর হবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৮.৫ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, প্রায় ৩.৪ কোটি মানুষ আয়ুষ্মান ভারতে নথিভুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১.২৩ কোটির বেশি মানুষের কাছে কার্ড পৌঁছে গেছে। বাকিদের জন্য চালু রাখা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *