দেশে ফের সোয়াইন ফ্লুর দাপট: কতটা বিপজ্জনক এই ভাইরাস? যা বলছে ICMR

কলকাতা: দেশে আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সোয়াইন ফ্লু বা H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা। বিশেষ করে রাজধানী দিল্লিতে সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হতে পরামর্শ দিয়েছেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর প্রবীণ চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।
নতুন কোনো স্ট্রেন নয়:
আইসিএমআর (ICMR)-এর গবেষকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে যে ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে তা নতুন কোনো মিউট্যান্ট বা স্ট্রেন নয়। এটি মূলত A/Missouri/11/2025 (H1N1)pdm09-like ভাইরাসের অন্তর্গত (ক্লেড 6B.1A.5a.2a এবং সাবক্লেড D.3.1.1)। ২০২৫ সাল থেকেই এই স্ট্রেনটি সক্রিয় রয়েছে। আনন্দের কথা হলো, বর্তমানে উত্তর গোলার্ধের জন্য ব্যবহৃত ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিনগুলি এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর।
লক্ষণ ও কতটা মারাত্মক?
সোয়াইন ফ্লু বা H1N1 একটি সিজনাল বা ঋতুভিত্তিক সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত বিশ্রামে নিজেই সুস্থ হয়ে ওঠেন।
- সাধারণ লক্ষণ: জ্বর, সর্দি-কাশি, মাথাব্যথা এবং শরীর ব্যথা।
- কাদের ঝুঁকি বেশি: শিশু, বয়স্ক এবং আগে থেকেই কঠিন রোগে ভুগছেন (কমোরবিডিটি) এমন মানুষদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস জটিলতা তৈরি করতে পারে। লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দিল্লিতে বাড়তি নজরদারি:
চলতি বছরে কেবল দিল্লিতেই ১,৭৭৭ জনেরও বেশি মানুষ H1N1-এ আক্রান্ত হয়েছেন। সম্প্রতি একদিনেই ১১৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লির ৩৫টি হাসপাতালকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরামর্শ:
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্র ও রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরগুলি নজরদারি বাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষকে জনবহুল এলাকায় মাস্ক পরা, হাত পরিষ্কার রাখা এবং ফ্লু-এর লক্ষণ দেখা দিলে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।