বেঙ্গালুরুতে ৫ কোটির জাল ওষুধ উদ্ধার! আসল-নকল চিনবেন কীভাবে?

সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (FDA) এনফোর্সমেন্ট বিভাগের এক অভিযানে প্রায় ৫ কোটি টাকার নকল ও ভেজাল ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্ণাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউটি খাদের জানিয়েছেন, এই বিপজ্জনক ওষুধগুলি বাজারদরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করা হচ্ছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র তথ্য অনুযায়ী, দারিদ্র্যপীড়িত ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলিতেই নকল ওষুধ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এই ধরনের ওষুধ সেবনে কোনো কাজ তো হয়ই না, উল্টে মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হয়। ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং দুর্নীতিই এই অবৈধ ব্যবসার প্রধান কারণ। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ফাইজার’-এর রিপোর্ট বলছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে বিক্রি হওয়া ওষুধের প্রায় ১০ থেকে ৪০ শতাংশই নকল হতে পারে, যেখানে উন্নত দেশগুলিতে এই হার ১ শতাংশেরও কম।
কীভাবে চিনবেন কোনটা আসল আর কোনটা নকল?
যদিও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়া শতভাগ নিশ্চিত হওয়া কঠিন, তবে ওষুধ কেনার সময় কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখে সতর্ক হওয়া সম্ভব:
- প্যাকেটের ভুল তথ্য ও বানান: ওষুধের প্যাকেট, বোতল বা লেবেলে প্রস্তুতকারক কো ম্পা নির নাম, ওষুধের নাম কিংবা উপাদানের বানানে কোনো ভুল থাকলে নিশ্চিতভাবেই সেটি সন্দেহজনক।
- রং ও আকারের পরিবর্তন: নিয়মিত খাওয়া কোনো ওষুধের রং, আকার বা চেহারায় হঠাৎ কোনো তফাত চোখ পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তা সেবন করবেন না।
- গুণমানে খামতি: আসল ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল একটি নির্দিষ্ট গঠনের হয়। ওষুধ ভাঙা, ভিজে যাওয়া, ছত্রাক পড়া, রঙে বুদবুদ দেখা দেওয়া কিংবা বোতলের নিচে পাউডার জমে থাকা নকল বা নিম্নমানের ওষুধের লক্ষণ।
- সিল ও প্যাকেজিং পরীক্ষা: সিল ভাঙা, ছেঁড়া বা আগে থেকে খোলা কোনো প্যাকেটের ওষুধ ভুলেও কিনবেন না।
নকল ওষুধ সন্দেহ হলে কী করবেন?
ওষুধ নিয়ে সামান্যতম সন্দেহ হলেও তা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। অবিলম্বে বিষয়টি আপনার চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট এবং সংশ্লিষ্ট ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাকে জানান। প্রতিটি ওষুধের ব্যাচ বা লট নম্বর (Batch/Lot Number) কো ম্পা নির কাছে নথিভুক্ত থাকে, যা থেকে ওষুধের সততা যাচাই করা সম্ভব। এছাড়া, এমন ঘটনা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানালে তা নকল ওষুধের কারবার রোখাতে সাহায্য করবে।