রাখির মুখেই খাবারে বিষ? উত্তরপ্রদেশে ১০০ কেজি মশা-মাছি লাগা রসগোল্লা নষ্ট করল খাদ্য দপ্তর!

কলকাতা / নয়েডা: সামনেই রাখি পূর্ণিমা। উৎসবের মুখে মিষ্টি ও দুগ্ধজাত দ্রব্যে ভেজাল ও দূষণ রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিল উত্তরপ্রদেশের খাদ্য সুরক্ষা এবং ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন দফতর (Food Safety and Drug Administration)। গৌতম বুদ্ধ নগর জেলাজুড়ে অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ১০০ কেজি নোংরা ও দূষিত রসগোল্লা নষ্ট করে দিয়েছেন আধিকারিকরা।
গৌতম বুদ্ধ নগরের ফুড সেফটি অফিসারদের একটি বিশেষ দল সম্প্রতি সেক্টর ৭২-এর সরফাবাদ এলাকায় অবস্থিত একটি মিষ্টি তৈরির কারখানায় হঠাৎ অভিযান চালায়। পরিদর্শনের সময় আধিকারিকরা দেখতে পান, খোলা অবস্থায় রাখা বিশাল পরিমাণ রসগোল্লার ওপর মশা ও মাছি ভ্যানভ্যান করছে। অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও দূষিত (Contaminated) পরিবেশ বজায় থাকায় তাৎক্ষণিকভাবেই জনস্বাস্থ্যের কথা ভেবে প্রায় ১০০ কেজি রসগোল্লা নষ্ট করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কারখানাটি থেকে রসগোল্লার নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
দিল্লি-এনসিআর সীমান্তে পনির ও খোয়ার গাড়িতে তল্লাশি: শুধু মিষ্টির কারখানাই নয়, মিষ্টি ও পনির সরবরাহের রুটেও নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন। গত ২৩ আগস্ট রাতে জেওয়ার টোল প্লাজায় ফুড সেফটি অফিসাররা বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালান। আলিগড় থেকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পথে একটি ডেইরির পনিরের নমুনা সংগৃহীত হয়। পাশাপাশি মথুরা থেকে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া আরও দুটি পনিরের চালান আটকে নমুনা সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা।
পরদিন, অর্থাৎ ২৪ আগস্ট অমর বাহাদুর সরোজের নেতৃত্বে আরও একটি দল সেক্টর ১৩৪-এর একটি নামী মিষ্টির দোকান এবং ইকোটেক-২ এলাকার একটি কারখানা থেকে খোয়া এবং মিষ্টির মোট ৭টি নমুনা সংগ্রহ করে।
কী বলছেন আধিকারিকরা? অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (ফুড-২) সর্বেশ মিশ্র জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশের খাদ্য সুরক্ষা ও ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কমিশনার এবং গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলাশাসকের সরাসরি নির্দেশেই এই বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। সংগ্রহ করা সমস্ত নমুনা ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, রাখি উৎসব উপলক্ষে বাজারজুড়ে মিষ্টি ও পনিরের চাহিদা তুঙ্গে। সাধারণ মানুষ যাতে খাঁটি, নিরাপদ ও উন্নত মানের খাদ্য সামগ্রী কিনতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই ভেজাল বিরোধী তল্লাশি অভিযান আগামী দিনগুলিতেও অব্যাহত থাকবে।