গর্ভপাতে রোগীর পেটে তিন ফুটো! চিকিৎসকের চরম গাফিলতিতে জীবন বিপন্ন অন্তঃসত্ত্বার!

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের ২ নম্বর ব্লকের সাঁইবাড়িতে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার চিকিৎসায় চরম গাফিলতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা রূপালি ভূঁইয়া গর্ভপাত করানোর জন্য স্থানীয় চিকিৎসক দেবকুমার দাসের শরণাপন্ন হন। পরিবারের অভিযোগ, ওই সময় চিকিৎসকের ভুুলের কারণে মহিলার পেটে তিনটি ফুটো তৈরি হয় এবং তাঁর খাদ্যনালী ও পায়ুনালী গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জেরে মহিলার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তাঁকে প্রথমে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় নয় দিন সিসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। বর্তমানে তিনি বাপের বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত চিকিৎসকের কোনো বৈধ বা স্বীকৃত ডিগ্রি নেই, অথচ তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ঘটনায় গত ১৮ আগস্ট নন্দীগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এদিকে নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার একটি প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে রূপালির বাড়ি গিয়ে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছে। স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. নিলয় কুমার প্রধান জানিয়েছেন, বিষয়টি পূর্বে জানা না থাকলেও এখন থেকে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে সব ধরনের চিকিৎসাগত সহযোগিতা প্রদান করা হবে। অপরদিকে, অভিযুক্ত চিকিৎসক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টে চক্রান্তের দাবি তুলেছেন। বর্তমানে গোটা বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হচ্ছে।