হাজার মাইল দূর থেকেই আমেরিকার যুদ্ধবিমান খতম! চীনের নতুন হাইপারসনিক অস্ত্রে তোলপাড় বিশ্ব

হাজার মাইল দূর থেকেই আমেরিকার যুদ্ধবিমান খতম! চীনের নতুন হাইপারসনিক অস্ত্রে তোলপাড় বিশ্ব

হাজার মাইল দূর থেকে নিখুঁত নিশানায় শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে সক্ষম নতুন হাইপারসনিক অস্ত্র তৈরি করেছে চীন। ব্লুমবার্গের এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শব্দের চেয়ে বহুগুণ দ্রুতগামী ‘গ্লাইড ভেহিকেল’ থেকে সরাসরি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য (এয়ার-টু-এয়ার) মিসাইল ছোঁড়া সম্ভব।

চীনা সামরিক বাহিনীর এই নতুন উদ্ভাবন ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধের রণকৌশল এক ঝটকায় বদলে দিতে চলেছে। এখন আর শুধু মুখোমুখি লড়াইয়ের ফাইটার জেটের ওপর নির্ভর করতে হবে না; বরং মূল যুদ্ধক্ষেত্র থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে নিরাপদে থাকা শত্রু বিমানকেও নিমেষে গুঁড়িয়ে দেবে চীনের এই হাইপারসনিক মিসাইল।

যেভাবে কাজ করবে চীনের এই নতুন প্রযুক্তি চীন এমন এক হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল তৈরি করেছে, যা মাঝআকাশে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছুটে চলা অবস্থাতেই অন্য মিসাইল উৎক্ষেপণ করতে পারে। আধুনিক সামরিক অভিযানে সম্মুখ সামনাসামনি থাকা ফাইটার জেটের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো পেছনে থাকা কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল, নজরদারি এবং এরিয়াল ট্যাংকার (জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমানগুলো। এগুলো পুরো যুদ্ধের সমন্বয় রক্ষা করে। চীনের মূল লক্ষ্য হলো দূর থেকেই শত্রুর এই প্রধান সাপোর্ট সিস্টেমকে ধ্বংস করে দেওয়া, যাতে সামনের ফাইটার জেটগুলো সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়ে। বর্তমানে বেইজিংয়ের হাতে ৩ হাজারের বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইলের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, যা তারা আরও আধুনিক করছে।

কেন এটি রোখা প্রায় আসাম্ভব? হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেলের সাথে এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলের এই সংমিশ্রণকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) পক্ষে আটকানো প্রায় আসাম্ভব। এগুলো একদিকে যেমন শব্দের চেয়ে বহুগুণ দ্রুত চলে, অন্যদিকে মাঝআকাশেই নিজেদের গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম। ফলে শত্রুপক্ষের রাডারে আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া বা ডিফেন্স সিস্টেম চালু করার মতো ন্যূনতম সময়ও মেলে না।

বিশ্বরাজনীতি ও মার্কিন বাহিনীর ওপর প্রভাব ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর এই প্রযুক্তি মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মূল শক্তিই হলো দূরপাল্লার নজরদারি বিমান, ড্রোন ও এয়ার ট্যাংকার—যা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে অবস্থান করে। চীন এতদিন ২০০ কিলোমিটার পাল্লার ‘PL-15’ মিসাইল দিয়ে নজর কাড়লেও, নতুন এই হাইপারসনিক প্রযুক্তি সেই সীমানাকে বহু দূরে নিয়ে গেল। ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিরাপদ বলয় এখন সরাসরি চীনের মারাত্মক হুমকির মুখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *