সাত বছর আগেই মিলেছিল বিপদের ইঙ্গিত! ভোটেকোশীর হড়পা বানের নেপথ্যে আসলে কী?

বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে নেমে আসা ভয়াবহ হড়পা বানে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটকের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজদের মধ্যে ১৪১ জন ভারতীয় রয়েছেন, যারা কৈলাস মানস সরোবর দর্শনে যাচ্ছিলেন। ভূবিজ্ঞানীদের প্রাথমিক অনুমান, তুষারধসের ফলে লেহন্দে নদীর প্রবাহ অবরুদ্ধ হয়ে এবং হিমবাহের হ্রদ ফেটে এই বিপর্যয় ঘটেছে। একই সময়ে তিব্বতীয় ভূখণ্ডে একটি ভূমিকম্পও আঘাত হেনেছিল, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নুয়াকোট এবং ধারিং জেলাও। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত তৎপরতার সঙ্গে নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ধরনের প্রাকৃতিক বিপদের আশঙ্কা বহু আগেই করেছিলেন গবেষকরা। ২০১৯ সালে প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছিল যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয়ের হিমবাহগুলি দ্বিগুণ গতিতে গলে যাচ্ছে। অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ এবং বনভূমি ধ্বংসের ফলে বর্ষায় এই ধরনের বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশগত এই ভারসাম্যহীনতা রোধ করা না হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ, তবে নিখোঁজ পর্যটকদের সুরক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ বজায় রয়েছে।