উদ্বেগ বাড়িয়ে হু-হু করে কমছে চিনের জনসংখ্যা, কাঠগড়ায় কোন কারণগুলি?
একসময় জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধে কঠোর নীতি গ্রহণ করলেও, বর্তমানে ভয়াবহ জনসঙ্কটের মুখে পড়েছে বেজিং। ধারাবাহিক জন্মহার হ্রাসের ফলে চিনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে মাত্র ৭৯ লক্ষ ২০ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৬ লক্ষ কম। এর বিপরীতে মৃত্যুর সংখ্যা এক কোটি ১৩ লক্ষ ছাড়িয়ে যাওয়ায় জনসংখ্যা হ্রাসের গতি আরও তীব্র হয়েছে। বর্তমানে প্রাকৃতিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নেমে দাঁড়িয়েছে মাইনাস ২.৪১ প্রতি হাজারে।
চিনের এই জনসংখ্যা সঙ্কটের পেছনে মূলত অতিরিক্ত জীবনযাত্রার খরচ, শিক্ষা, আবাসন ও চিকিৎসা ব্যয় এবং কর্মজীবনের চাপ প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বেজিং সরকার তিন বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য বার্ষিক ৩,৬০০ ইউয়ান ভর্তুকি এবং কর ও আবাসন নীতিতে ছাড়ের মতো নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে সরকারি এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের অনীহা কাটছে না। ফলস্বরূপ, বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল এই রাষ্ট্রে কর্মক্ষম মানুষের ঘাটতি এবং বয়স্কদের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ভবিষ্যতে এক গভীর সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।