বংশগত রোগ এড়াতে বড় পদক্ষেপ, জাপান থেকে দার্জিলিংয়ে আসছে তুষার চিতার ‘পাত্রী’

দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্কের তুষার চিতা পরিবারে সম্ভাব্য জিনগত ত্রুটি এড়াতে অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একই পরিবারের মধ্যে প্রজনন প্রক্রিয়ার ফলে এই দুর্লভ বন্যপ্রাণীদের মধ্যে জিনগত জটিলতা ও শারীরিক পরিবর্তনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় জাপানের তামা জু-এর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে বন দফতর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জিনগত বৈচিত্র বজায় রাখতে জাপানের ওই চিড়িয়াখানা থেকে একটি স্ত্রী তুষার চিতা আনা হবে এবং বিনিময়ে দার্জিলিং থেকে একটি স্ত্রী তুষার চিতা জাপানে পাঠানো হবে।
বর্তমানে শৈলশহরের তোপকেদাড়া প্রজনন কেন্দ্রে মোট ১৩টি তুষার চিতা রয়েছে, যার মধ্যে ৫টি পুরুষ ও ৮টি স্ত্রী। বিশেষজ্ঞদের মতে, বদ্ধ পরিবেশে একই রক্তরেশ বা বংশের মধ্যে প্রজনন চললে প্রজাতির জিনগত স্বাস্থ্য দ্রুত নষ্ট হয়, যার দৃষ্টান্ত অতীতে অন্যান্য বন্যপ্রাণীর ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে। তামা জু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আদান-প্রদানের এই প্রস্তাব ইতিবাচক স্তরে থাকলেও এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অরণ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রাণী বিনিময় প্রোটোকল মেনে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এটি দার্জিলিং চিড়িয়াখানার সংরক্ষণ ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হয়ে উঠবে।