সতীর অভিশাপেই কি ছারখার নেপাল? এক নারীর চিতাগ্নির পর লুকিয়ে থাকা প্রাচীন রহস্য

হিমালয়ের কোলে ঘেরা অপরূপ সৌন্দর্যের দেশ নেপাল। তবে এই পাহাড়ি মুলুক কেবল প্রাকৃতিক রূপের জন্যই নয়, বিখ্যাত তার হাজার বছরের প্রাচীন রহস্য ও গা-ছমছমে লোককথার জন্যও। নেপালে বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদ হলো— ‘সতী লে সরাপেকো দেশ’, অর্থাৎ ‘সতীর অভিশপ্ত দেশ’। লোককথা অনুযায়ী, এক নারীর দেওয়া চরম অভিশাপের করুণ স্মৃতি শত শত বছর ধরে আজও বয়ে বেড়াচ্ছে এই দেশ।
এই ইতিহাসের সূত্রপাত ১৭ শতকে। তৎকালীন রাজদরবারের অত্যন্ত দক্ষ ও জনপ্রিয় মন্ত্রী ছিলেন কাজি ভীম মল্ল। তিব্বতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলা থেকে শুরু করে দেশের সীমানা বিস্তারে তাঁর অবদান ছিল অতুলনীয়। কিন্তু তাঁর এই প্রতিপত্তি দেখে রাজদরবারের একদল চক্রান্তকারী ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে। তারা রাজার কাছে মিথ্যে রটায় যে, ভীম মল্ল নাকি সিংহাসন দখলের ষড়যন্ত্র করছেন। সেই ষড়যন্ত্রের বলিকাতঠেই বিনা বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এই বীর মন্ত্রীকে।
স্বামীর এমন মর্মান্তিক ও অন্যায্য পরিণতি সহ্য করতে পারেননি তাঁর স্ত্রী ভুবনলক্ষ্মী। তৎকালীন সতীদাহ প্রথা অনুযায়ী স্বামীর চিতাতেই আত্মাহুতির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু চিতার আগুনে ঝাঁপ দেওয়ার ঠিক আগে শোকে ও ক্ষোভে ফেটে পড়ে তিনি সমগ্র রাজ্য ও শাসকের উদ্দেশ্যে এক ভয়ঙ্কর অভিশাপ দেন। বিশ্বাস করা হয়, সেই অভিশাপের পর থেকেই নেপালের রাজপরিবার ও রাজনীতিতে নেমে আসে চরম অস্থিরতা, ক্রমাগত রক্তক্ষয়ী ক্ষমতার লড়াই এবং একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
ইতিহাসবিদরা একে কোনো অলৌকিক ঘটনা হিসেবে না দেখলেও, ক্ষমতার লোভ ও ষড়যন্ত্রের করুণ পরিণতি হিসেবে ভুবনলক্ষ্মী ও ভীম মল্লের এই ইতিহাস আজও নেপালের মানুষের মুখে মুখে ফেরে।