মৃত্যুর ফাঁদ নুওয়াকোট! চোখের নিমেষে এক বাড়ি থেকে উদ্ধার ২৩ জনের নিথর দেহ

নেপালের পাহাড়ি জনপদে বন্যার জল কমতে শুরু করলেও ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে বেরিয়ে আসছে একের পর এক মর্মান্তিক দৃশ্য। নুওয়াকোট জেলার বিদুর পুরসভার বেত্রাবতী গ্রামে একটি তিনতলা বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে একই সঙ্গে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হড়পা বানের জেরে কোশী ও ত্রিশূলী নদীর প্রবল স্রোত এবং কাদা-পাথরের নিচে চাপা পড়ে বাড়িটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। প্রাথমিক অনুমান, জলোচ্ছ্বাস থেকে বাঁচতে তাঁরা বাড়ির উপরের তলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তাঁদের জন্য মৃত্যুফাঁদ হয়ে ওঠে। উদ্ধার হওয়া দেহগুলির মধ্যে একটি ছোট মেয়েকে শক্ত করে জড়িয়ে থাকা এক মহিলার দেহও রয়েছে, যা দেখে কেঁপে উঠেছে উদ্ধারকারীরাও।
এই প্রলয়ংকর বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং চার হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। রাসুয়া জেলার উত্তরগয়া গ্রামে প্রায় ৩৫০ জন পড়ুয়া ও ত্রিশূলী নদীর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বহু কর্মীর এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই নেপালি সেনার পাশাপাশি উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে ভারতীয় দলও। ল্যাংটাং ও চিলিমে সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে জোর তৎপরতা। প্রশাসনিক আধিকারিকদের আশঙ্কা, উদ্ধারকাজ যত এগোবে, হতাহতের সংখ্যা ততই আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।