টোল প্লাজায় কোটি কোটি টাকার সফটওয়্যার দুর্নীতি: কলকাতায় সাতসকালেই ইডির হানা, দেশজুড়ে ১৪ জায়গায় তল্লাশি

কলকাতা: ফের রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি)-এর তৎপরতা। বুধবার সকালে কলকাতার শেক্সপিয়র সরণির একটি অভিজাত আবাসনে হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। কেবল পশ্চিমবঙ্গই নয়, টোল প্লাজা দুর্নীতির সূত্রে ধরে দেশের মোট সাতটি রাজ্যের ১৪টি জায়গায় একযোগে এই তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
সূত্রের খবর, জাতীয় সড়কে অবৈধভাবে টোল ট্যাক্স আদায়ের একটি বড়সড় দুর্নীতির তদন্তে নেমেছে ইডি। অভিযোগের সূত্রপাত উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে। সেখানে একটি জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়, যেখানে দাবি করা হয়— সরকারি নজর এড়িয়ে একটি বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভুয়া টোল রসিদ তৈরি করা হতো। সেই অবৈধ রসিদের মাধ্যমে গাড়িচালকদের থেকে আদায় করা কোটি কোটি টাকা সরকারি খাতায় না গিয়ে সোজা পৌঁছে যেত দুর্নীতিবাজদের পকেটে। গোপন এই সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে রাজস্ব ফাঁকির এই বড় জালিয়াতি এতদিন ধরা পড়েনি।
এই জালিয়াতির টাকার উৎস এবং তা কোথায় কোথায় পাচার হয়েছে, তার খোঁজ চালাতেই ময়দানে নেমেছে ইডি। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই বুধবার ভোরে ইডির ৬ সদস্যের একটি দল কলকাতার শেক্সপিয়র সরণির ওই আবাসনে হাজির হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পুরো আবাসন ঘিরে ফেলার পর, সেখানে এক ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাট ও তাঁর অফিসে চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, এই আর্থিক দুর্নীতির জাল বাংলা ছাড়াও উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানের মতো একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত। লখনউয়ের দুর্নীতি মামলায় কলকাতার এই ব্যবসায়ীর ঠিক কী ভূমিকা রয়েছে এবং ডিজিটাল প্রমাণের খোঁজে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। তবে তল্লাশিতে কী কী গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তকারীদের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি।