৬০ ঘণ্টা নেপালের মৃত্যুস্তূপে বন্দি! অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরে বাবা-মাকে যে প্রশ্ন করল পাঁচ বছরের শিশুকন্যা

৬০ ঘণ্টা নেপালের মৃত্যুস্তূপে বন্দি! অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরে বাবা-মাকে যে প্রশ্ন করল পাঁচ বছরের শিশুকন্যা

মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের ব্যবধানে হড়পা বানের সর্বগ্রাসী স্রোতে ভেসে গিয়েছিল উত্তর নেপালের একটি আস্ত বাড়ি। সেই সময় বাড়ির বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান দম্পতি, কিন্তু ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়ে তাদের পাঁচ বছরের শিশুকন্যা মনীষা। জলরোষে সব হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মায়ের কানে কেবল ভেসে এসেছিল মেয়ের ‘মা-বাবা’ আর্তনাদ, যা শুনে জ্ঞান হারান তাঁরা। এরপর একটানা ৬০ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে অলৌকিকভাবে মৃত্যুস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। উদ্ধারকারী দল কান্নার শব্দ পেয়ে মাটির স্তূপ ও জঞ্জাল সরিয়ে তাকে উদ্ধার করে। চোখে-মুখে মারাত্মক আঘাত থাকলেও চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠার পর গত ৩০ আগস্ট তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পরিবারের কোলে ফিরে স্বাভাবিক হতেই ছোট্ট মনীষার সরল প্রশ্ন, “তোমরা আমাকে বাঁচাতে এলে না কেন?” মেয়ের এই নাড়া দেওয়া প্রশ্নে স্তব্ধ হয়ে গেছেন অসহায় বাবা-মা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিশুর বাবা জানান, অভিশপ্ত ওই সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার মুহূর্তেই হড়পা বান সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সর্বস্ব হারিয়ে তাঁরা ধরেই নিয়েছিলেন মেয়ে আর বেঁচে নেই। কিন্তু ভাগ্যের জোরে ধ্বংসস্তূপের একটি ফাঁকা জায়গায় আটকে থেকে বেঁচে যায় মনীষা। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে শিশুটি, যা এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মাঝেও এক অবিশ্বাস্য বেঁচে থাকার গল্প হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *