মাদ্রাসার জন্য মন্দির ভাঙা! পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় তোপ ভারতের

পাকিস্তানের নারোয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারত। লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরনো এবং এক হাজার বর্গমিটার এলাকাব্যাপী বিস্তৃত এই ঐতিহাসিক মন্দিরটি মাদ্রাসার জমি সম্প্রসারণের অজুহাতে ধ্বংস করা হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই ঘটনার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা করে জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ের ওপর এমন উদ্বেগজনক হামলা এবং তা রক্ষায় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা পাকিস্তানের প্রকৃত চিত্রটাই ফুটিয়ে তোলে। স্থানীয় কট্টরপন্থী মহলের মদতে ঘটা এই ঘটনা দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতার করুণ অবস্থাকে ফের একবার আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও উপাসনালয় ধ্বংসের ঘটনা নতুন নয়, যার জেরে দেশভাগের সময়ের তুলনায় সেখানে হিন্দুদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। অতীতেও একাধিকবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এবং তাঁদের অধিকার সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। সিরাজ গ্রামের এই মন্দির ভাঙার ঘটনাটি নিয়ে নয়াদিল্লি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক মহলের চোখ এড়িয়ে চলা এই ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের প্রশ্নগুলোকে আরও জোরালো করে তুলছে।