পশ্চিমা দেশের কড়াকড়িতে লাভ পুতিনের? কম খরচে পড়াশোনায় মজেছে আফ্রিকা

পশ্চিমা দেশের কড়াকড়িতে লাভ পুতিনের? কম খরচে পড়াশোনায় মজেছে আফ্রিকা

পশ্চিমী দেশগুলির সঙ্গে তীব্র ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যেই আফ্রিকায় নিজেদের প্রভাব বাড়াতে এক অভিনব কৌশল নিয়েছে রাশিয়া। কূটনীতির নতুন হাতিয়ার হিসেবে শিক্ষাকে সামনে রেখে ক্রেমলিন এখন আফ্রিকান শিক্ষার্থীদের আকর্ষণে বড় পদক্ষেপ করেছে। বিগত বছরগুলিতে যেখানে হাজার হাজার আবেদন জমা পড়েছে, তাতে মস্কোর এই উদ্যোগ বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।

কম খরচে পড়াশোনা এবং কূটনৈতিক সমীকরণ পশ্চিমা দেশগুলিতে ভিসা নীতি কঠোর হওয়া এবং আকাশছোঁয়া টিউশন ফি-র কারণে আফ্রিকান শিক্ষার্থীদের একাংশ এখন রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে। ইউরোপ বা আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে চিকিৎসা বা অন্যান্য বিশেষ কোর্সের বার্ষিক খরচ যেখানে ২০,০০০ থেকে ৪০,০০০ মার্কিন ডলার, সেখানে রাশিয়ায় তা মাত্র ২,০০০ থেকে ১০,০০০ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। পাশাপাশি, রাশিয়া সরকার হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ ফান্ডেড স্কলারশিপের ব্যবস্থাও করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব কম খরচে মিত্র দেশ তৈরি করার এটি রাশিয়ার অন্যতম প্রধান অস্ত্র, যার মাধ্যমে তারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের উপনিবেশ-বিরোধী ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

শিক্ষা নাকি প্রোপাগাণ্ডার ফাঁদ? রাশিয়ার এই সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত উদ্যোগের নেপথ্যে অন্য আশঙ্কাও দেখছেন সমালোচকরা। আফ্রিকান দেশগুলিতে রাশিয়ার কালচারাল সেন্টার বা “রাশিয়ান হাউজ”-গুলির সম্প্রসারণ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, এই কেন্দ্রগুলি অনেক সময় ক্রেমলিনের প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানোর কাজ করে থাকে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, কিছু শিক্ষার্থীকে ভিসা বা আইনি জটিলতার অজুহাতে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে কিংবা সমরাস্ত্র কারখানায় কাজ করতে বাধ্য করার অভিযোগও সামনে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া বর্তমানে আফ্রিকাকে শত্রু হিসেবে নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে পেতে চাইছে। কিন্তু এই ধরনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক স্তরে রাশিয়ার সফট পাওয়ার বা ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তা সত্ত্বেও, পশ্চিমের কঠিন অভিবাসন নীতির কারণে অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজতে আফ্রিকান তরুণদের কাছে রাশিয়া এখন অন্যতম প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *