“বাচ্চার ভেতরের শিশুটাকে বাঁচিয়ে রাখুন”, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মুখোমুখি মোদী

নয়াদিল্লি: শিক্ষক দিবস উপলক্ষে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ ও খোলামেলা আলোচনায় মেতে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন, ৭ লোক কল্যাণ মার্গে আয়োজিত এই বিশেষ বৈঠকে পড়ানোর আধুনিক কৌশল, জনসংযোগ, মোবাইল আসক্তি, মাদকের কুফল এবং শিশুদের মানসিক বিকাশসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।
বৈঠকে হালকা রসিকতা ও গম্ভীর আলোচনার এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা যায়। এক শিক্ষিকা ছাত্রছাত্রীদের ইন্টারভিউ নেওয়া শেখানোর কথা বললে প্রধানমন্ত্রী হাসতে হাসতে জানান, এতে বাচ্চারা হয়তো বাড়িতে বাবা-মায়ের কেনাকাটা বা রান্নাবান্না নিয়েও সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করবে। আবার পাবলিক স্পিকিংয়ের টিপস চাইতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দেখে শিক্ষিকা নার্ভাস হয়ে পড়লে, প্রধানমন্ত্রীর ‘অরা’ বা ব্যক্তিত্ব নিয়েও দু’জনের মধ্যে মজার কথোপকথন হয়।
আলোচনায় উঠে আসে শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের প্রসঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, সব শিশু পড়াশোনায় সমান না-ও হতে পারে, কিন্তু ঈশ্বর সবাইকে কোনো না কোনো বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছেন; শিক্ষকদের দায়িত্ব সেই প্রতিভা খুঁজে বের করা। বৈঠকে এক পুরস্কারজয়ী শিক্ষিকা মোদী সরকারের ‘একলব্য স্কুল’ উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা আজ NIT ও IIT-এর মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখছে।
সামাজিক স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এক শিক্ষিকা মহিলাদের স্তন ক্যান্সার নিয়ে প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজের সংসদীয় ক্ষেত্র কাশীর অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানান, সেখানে আয়োজিত সচেতনতা অভিযানে একদিনে সর্বাধিক মহিলার স্ক্রিনিং করিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়া হয়েছিল।
বর্তমান সময়ে শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। একে এক ধরনের ‘আসক্তি’ উল্লেখ করে তিনি জানান, ভিডিও গেম নয়, শিশুদের মাঠের খেলাধুলো ও সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমেই এই সমস্যা থেকে বের করে আনা সম্ভব। পাশাপাশি শহর ও গ্রামে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মাদকের ছোবল থেকেও শিক্ষার্থীদের সতর্ক রাখার জন্য শিক্ষকদের নির্দেশ দেন তিনি।
পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কেবল বই বা সিলেবাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বাচ্চার ভেতরের শিশুটাকে মরে যেতে দেওয়া যাবে না, আর এই শৈশবকে বাঁচিয়ে রাখার আসল কাজটা একজন শিক্ষকই করতে পারেন।”
উল্লেখ্য, শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে নির্বাচিত ৪৮ জন (২৬ জন পুরুষ ও ২২ জন নারী) শিক্ষককে ‘জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার’-এ ভূষিত করেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্মবার্ষিকী স্মরণে প্রতি বছর ৫ সেপ্টেম্বর সারা দেশে এই দিনটি পালিত হয়।