শান্তি আলোচনার আবহেই অগ্নিগর্ভ যুদ্ধক্ষেত্র: রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের মার, জবাব বন্দরের ওপর!

শান্তি আলোচনার আবহেই অগ্নিগর্ভ যুদ্ধক্ষেত্র: রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের মার, জবাব বন্দরের ওপর!

আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি ফেরানোর কূটনৈতিক প্রয়াসের মাঝেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীরা যখন কিয়েভ ও মস্কোয় দৌত্য চালাচ্ছেন, ঠিক তখনই দুই দেশ একে অপরের কৌশলগত পরিকাঠামো লক্ষ্য করে বড় মাপের হামলা চালিয়েছে।

রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হানা

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোশ্যাল মিডিয়া ‘X’-এ জানিয়েছেন, রুশ আগ্রাসনের যোগ্য জবাব দিতে কিয়েভ বাহিনী রাশিয়ার ভূখণ্ডে দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করে একাধিক আঘাত হেনেছে। ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার রিয়াজান, পার্ম ও তাতারস্তান অঞ্চলের কয়েকটি প্রধান তেল শোধনাগার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি, কুর্স্ক অঞ্চলে রাশিয়ার একটি ড্রোন মজুত ও লঞ্চিং সাইট এবং কৃষ্ণ সাগরের একটি বিশেষ লক্ষ্যবস্তুতেও সফল হামলা চালানো হয়েছে।

ইউক্রেনীয় বন্দরে রাশিয়ার ড্রোন বিপর্যয়

অন্য দিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও রুশ সংবাদ সংস্থা TASS দাবি করেছে যে তারা ইউক্রেনের বন্দর পরিকাঠামো ধ্বংস করতে পাল্টা অভিযান জোরদার করেছে। রবিবারে চের্নোমোর্স্ক বন্দরে ‘মাভকা’ নামের এক কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়, যেটিতে সামরিক সরঞ্জাম ছিল বলে রাশিয়ার দাবি। এ ছাড়াও, পশ্চিমী দেশগুলোর সামরিক সরঞ্জাম খালাসের কেন্দ্র ইজমাইল বন্দরের লোডিং কমপ্লেক্স এবং ওডেসার দুটি লজিস্টিক সেন্টারে ‘জেরান-৪’ ড্রোন ব্যবহার করে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে মস্কো।

মার্কিন প্রতিনিধিদের শান্তি উদ্যোগ ও সাময়িক বিরতি

এই প্রবল সংঘর্ষের মধ্যেই মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার কিয়েভে ইউক্রেনীয় প্রশাসনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন। এই আলোচনায় ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মার্কিন প্রতিনিধি দলটি মস্কোতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও বৈঠক করেছিল।

মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরের সময় দুই দেশ রাজধানীগুলোতে হামলা বন্ধ রাখতে ৭২ ঘণ্টার একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে ইউক্রেনীয় বায়ুসেনার তথ্য অনুযায়ী, কিয়েভকে রেহাই দেওয়া হলেও দেশের অন্যান্য স্থানে সামরিক অভিযান থামায়নি রাশিয়া। কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও মার্কিন প্রতিনিধিরা একটি ইতিবাচক সমাধানসূত্রের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *