স্ত্রীই কখনও ‘মেয়ে’, কখনও ‘ভাইঝি’! দেগঙ্গায় বিয়ের নামে চাঞ্চল্যকর প্রতারণাচক্র ফাঁস

দেগঙ্গা:
বিয়ের নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতে পাত্রপক্ষের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ও সোনা-গয়না হাতানোর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর্দাফাঁস হলো উত্তর চব্বিশ পরগনার দেগঙ্গায়। নিজের স্ত্রীকে কখনও ‘ভাইঝি’ আবার কখনও ‘মেয়ে’ সাজিয়ে বারবার অন্যত্র বিয়ে দেওয়া এবং সুযোগ বুঝে টাকা-গয়না নিয়ে চম্পট দেওয়ার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে দেগঙ্গা থানার পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে কলসুর এলাকায়।
ঘটনার শুরু যেভাবে
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কলসুর এলাকার এক অবিবাহিত যুবক ঘটকের মাধ্যমে পাত্রীর সন্ধান পান। ছবি দেখে পছন্দ হওয়ায় মন্দিরে ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়ের সময় এক ব্যক্তি নিজেকে পাত্রীর ‘কাকা’ পরিচয় দিয়ে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ‘কন্যা সম্প্রদান’ করেন।
যেভাবে ফাঁস হলো রহস্য
বিয়ের ঠিক একদিন পরেই ঘটনার মোড় ঘোরে। নববিবাহিত যুবক জানতে পারেন, যাঁকে স্ত্রীর কাকা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছিল, তিনি আসলে ওই মহিলারই বৈধ স্বামী! শুধু তাই নয়, ওই দম্পতির দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং তাঁদেরও ইতিমধ্যে বিয়ে হয়ে গিয়েছে।
ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও বাসিন্দারা অভিযুক্ত দম্পতিকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করে। এরপরই প্রতারিত যুবক দেগঙ্গা থানার দ্বারস্থ হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশি তদন্ত ও গ্রেপ্তার
অভিযোগের ভিত্তিতে দেগঙ্গা থানার পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযুক্ত দম্পতিকে আটক করে জেরা শুরু করে। কড়া জেরার মুখে তারা অপরাধ স্বীকার করে নেয়। পুলিশ সূত্রে দাবি, প্রতারণার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই চক্রটি চালানো হচ্ছিল। এর আগেও অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে কন্যা বা ভাইঝি পরিচয় দিয়ে একাধিক পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিল এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই পাত্রপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের নগদ অর্থ ও সোনার গয়না হাতিয়ে নিয়েছিল।
প্রতারিত যুবকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দেগঙ্গা থানার পুলিশ ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে বারাসাত মহকুমা আদালতে পাঠিয়েছে। এই প্রতারণাচক্রে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।