নভেম্বরেই ইরান যুদ্ধ শেষ! ট্রাম্পের বড় দাবির পরেই তোলপাড় হোয়াইট হাউজ

আমেরিকার নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হলেই তাৎক্ষণিকভাবে স্তব্ধ হয়ে যাবে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন বড় দাবিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ইরানের নেই এবং তারা আমেরিকার নির্বাচনে প্রভাব ফেলার মরিয়া চেষ্টা করছে। তবে তাঁর এই আশার বাণী মেনে নিতে পারছেন না হোয়াইট হাউজের শীর্ষ উপদেষ্টারা। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপদেষ্টারা ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধ তাঁর মেয়াদের বাকি পুরো দুই বছরও গড়ায় যেতে পারে।
একদিকে ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষের দাবি, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ ও জলপথে সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে:
- জাতিসংঘে চাপ বৃদ্ধি: পরমাণু কর্মসূচিতে অসহযোগিতার অভিযোগে ‘আইএইএ’ (IAEA)-এর গভর্নিং বডি ইরানকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর প্রস্তাব পাস করেছে। ২৩টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে এবং ৩টি দেশ (রাশিয়া, চীন ও নাইজার) বিপক্ষে ভোট দেয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মুখে।
- সমুদ্রে সরাসরি হামলা: আন্তর্জাতিক জলপথে উত্তাপ বাড়িয়ে মঙ্গলবার পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করেছে মার্কিন সেনা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, মার্কিন নৌজাহাজে ইরানের হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার পরই এই পদক্ষেপ।
- জ্বালানি সংকট: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি ও মাশুল দাবি করছে তেহরান। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে জাহাজ চলাচল, যা বিশ্বজুড়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্প যতই যুদ্ধ শিথিল হওয়ার বার্তা দিন না কেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় পরিস্থিতি এত সহজে শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।