ব্যাঙ্কে বড় অংকের নগদ জমা করছেন? এই সীমা পার হলেই পেতে পারেন আয়কর নোটিস!

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা রাখা একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সাধারণ প্রক্রিয়া। তবে একটি নির্দিষ্ট অর্থবর্ষে বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন করলে আপনি সহজেই আয়কর দপ্তরের নজরদারিতে চলে আসতে পারেন। নগদ জমার পরিমাণ আইনি সীমা অতিক্রম করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক সেই তথ্য আয়কর দপ্তরকে জানাতে বাধ্য থাকে, যার পর জমানো অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
১০ লক্ষ টাকার নিয়ম ও আয়করের নজরদারি নগদ টাকা জমা দেওয়া কোনো বেআইনি কাজ নয়। কিন্তু জমানো অর্থের উৎস অস্পষ্ট হলে কিংবা ঘোষিত আয়ের সাথে লেনদেনের সামঞ্জস্য না থাকলে তা সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি দিল্লির আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনালও এক রায়ে জানিয়েছে যে, যেকোনো বড় অঙ্কের নগদ জমার উৎস সম্পর্কে কর আধিকারিকদের প্রশ্ন করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, এক অর্থবর্ষে কোনো ব্যক্তির এক বা একাধিক ব্যাঙ্ক কিংবা কো-অপারেটিভ অ্যাকাউন্টে মোট ১০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা হলে ব্যাঙ্ক সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট আয়কর দপ্তরের কাছে পাঠায়। এই সীমা অতিক্রম করলে জমা অর্থের উৎস জানতে চেয়ে আয়কর নোটিস আসতে পারে। সেক্ষেত্রে সম্পত্তি বিক্রি, ব্যবসার আয় কিংবা বৈধ উপহার সংক্রান্ত উপযুক্ত প্রমাণ দেখানো আবশ্যক।
নোটিস পেলে কী করবেন? আয়কর নোটিস এলেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নোটিসটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি (যেমন: ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, সম্পত্তি বিক্রির দলিল, ব্যবসার হিসাব বা রিটার্ন ফাইল) সহ সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে।
নগদ তোলার ক্ষেত্রেও সতর্কতা শুধু নগদ জমা নয়, ঘন ঘন বা বড় অঙ্কের নগদ তোলার লেনদেনও আয়কর দপ্তরের নজরে আসতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়াতে UPI, NEFT বা RTGS-এর মতো ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন করার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এতে লেনদেনের স্বয়ংক্রিয় রেকর্ড থাকে। সর্বপরি, আয়কর রিটার্নে সঠিক তথ্য প্রদান এবং সমস্ত আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছ নথি রাখাই এই ধরণের ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকার সেরা উপায়।