কলকাতায় খাদ্যসুরক্ষায় তীব্র নজরদারি: দু’দিনে বাতিল ৬৫টি হোটেল-রেস্তরাঁর লাইসেন্স, তালিকায় চেনা পরিচিত নামও!

কলকাতায় খাদ্যসুরক্ষায় তীব্র নজরদারি: দু’দিনে বাতিল ৬৫টি হোটেল-রেস্তরাঁর লাইসেন্স, তালিকায় চেনা পরিচিত নামও!

কলকাতা জুড়ে খাবারের গুণমান পরীক্ষা এবং রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বিশেষ অভিযানে নেমেছে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের ‘ফুড সেফটি’ টিম। মঙ্গলবারের পর বুধবারও নতুন করে আরও ২৫টি হোটেল ও রেস্তরাঁর ফুড লাইসেন্স সাময়িক ভাবে বাতিল করল পুরসভা। ফলে গত দু’দিনে এই তালিকায় শহরের মোট ৬৫টি খাদ্যবিপণির নাম যুক্ত হলো।

নতুন এই তালিকায় রয়েছে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের ‘চাং ওয়া’, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটের ‘নিউ আলিয়া’ ও ‘আলিশান’-এর মতো শহরের বেশ জনপ্রিয় কিছু প্রতিষ্ঠান। পরিদর্শকদের দাবি, অনেক জায়গাতেই সঠিক নিয়মে খাবার মজুত রাখা হচ্ছিল না এবং রান্নাঘরের পরিবেশও অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ছিল। খাদ্যসুরক্ষা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

তবে পুরসভার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এটি কোনো স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়। ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। পরবর্তীতে খাদ্যসুরক্ষা আধিকারিকেরা পুনরায় পরিদর্শন করে নিয়মমাফিক সবকিছু দেখতে পেলে লাইসেন্স ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিউ মার্কেটের ‘নিজামস’, ‘নিউ আলিয়া’ ও ‘চাং ওয়া’-র মতো স্থানে রেস্তরাঁ বা রান্নাঘর বন্ধ রাখতে দেখা যায়। অন্যদিকে ‘আলিশান’ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে খাবারের মানে কোনো সমস্যা ছিল না, মূল আপত্তি ছিল পরিচ্ছন্নতা ও কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে।

শুধু অভিযানই নয়, গত ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শহরের বিভিন্ন দোকান থেকে ১৬১টি খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে পুরসভা। পরীক্ষায় কোনো ভেজাল বা অনিয়ম মিললে ২০০৬ সালের খাদ্যসুরক্ষা ও গুণমান আইন অনুযায়ী কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে ব্যবসায়ীদের। কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও কোচবিহারেও একইভাবে নজরদারি চালানো হচ্ছে।

চলতি অভিযানে সমনামের কিছু ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকানের নাম জড়িয়ে গুজব ছড়াতে শুরু করায় ইতিমধ্যেই ‘গিরিশ চন্দ্র দে ও নকুড় চন্দ্র নন্দী’ এবং ‘বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক’ সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, তাদের প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স পুরোপুরি সুরক্ষিত রয়েছে এবং কোনো সমস্যার সম্মুখীন তারা হননি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *