আমেরিকাতেও ভারতীয় ‘ভাতা’ মডেল! ভোটের মুখে ট্রাম্পের $৫,০০০ ডলারের বিশাল ‘টোপ’

আমেরিকাতেও ভারতীয় ‘ভাতা’ মডেল! ভোটের মুখে ট্রাম্পের $৫,০০০ ডলারের বিশাল ‘টোপ’

মার্কিন রাজনীতির আঙিনায় এবার আছড়ে পড়ল ভারতীয় ভোট-রাজনীতির পরিচিত হাওয়া! নভেম্বরের হাড্ডাহাড্ডি ‘মিডটার্ম’ বা মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগেই মার্কিন ভোটারদের জন্য এক বিরাট আর্থিক উপহারের ঘোষণা করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫,০০০ ডলার (প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা) করে ‘ডিভিডেন্ড’ বা লভ্যাংশ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে এই বিশাল আর্থিক সুবিধার পেছনে ট্রাম্প জুড়ে দিয়েছেন একটি বিশেষ শর্ত—আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চ ও নিম্ন—উভয় কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হবে।

টেক্সাসের সভা থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অঙ্ক টেক্সাসের ডালাসে এক নির্বাচনী মহাসমাবেশে টানা ১০০ মিনিটের দীর্ঘ ভাষণে এই নজিরবিহীন আর্থিক সুবিধার কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। কিন্তু এত বিপুল অর্থ কীভাবে জোগাড় হবে, তার কোনো স্পষ্ট রূপরেখা তিনি দেননি। হিসাব অনুযায়ী, সমস্ত মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের যদি ৫,০০০ ডলার করে দেওয়া হয়, তবে মার্কিন কোষাগার থেকে খরচ হবে ১ ট্রিলিয়ন (১ লক্ষ কোটি) ডলারেরও বেশি অর্থ, যা কার্যকর করতে মার্কিন কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন।

মার্কিন রাজনীতিতে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ ভাতা মডেল? ট্রাম্পের এই চালে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ভারতের নির্বাচনী রাজনীতির ছায়া। ১৯৫০-এর দশকে তামিলনাড়ুতে কে কামরাজের সর্বজনীন শিক্ষা ও মিড-ডে মিলের মাধ্যমে যে জনকল্যাণমুখী রাজনীতির সূচনা হয়েছিল, পরবর্তীতে ডিএমকে (DMK) ও এআইএডিএমকে (AIADMK) তা ফ্রি টিভি, মিক্সার, রান্নার গ্যাস ও ক্যাশ বিতরণের সংস্কৃতিতে পরিণত করে। পরবর্তীতে আম আদমি পার্টি (AAP) সহ ভারতের প্রায় প্রতিটি রাজ্যই এই ‘ভাতা ও ফ্রিতে পরিষেবা’ দেওয়ার মডেলকে মূলধারার রাজনীতিতে নিয়ে আসে। ভারতের সেই বহুল পরীক্ষিত চালকেই এবার পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতিতে প্রয়োগ করতে চাইছেন ট্রাম্প।

পুরোনো রেকর্ড ও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় ভোটারদের এমন আকর্ষক টোপ দেওয়া ট্রাম্পের জন্য প্রথম নয়। এর আগে তিনি ইলন মাস্কের ‘DOGE’ প্রকল্পের মাধ্যমে সাশ্রয়ী অর্থ বিলিয়ে দেওয়ার “ডজ ডিভিডেন্ড” কিংবা আমদানি শুল্কের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার “ট্যারিফ রিফান্ড”-এর মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যার একটিও বাস্তবে রূপ পায়নি। একদিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও অর্থনৈতিক সমীক্ষাগুলো যেমন ভারতে এই ‘খয়রাতি’ সংস্কৃতির ফলে রাজকোষে চরম চাপের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের এই ৫,০০০ ডলারের প্রতিশ্রুতিও আইনি ও আর্থিক কাঠামোর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আদতে বাস্তবায়িত হবে নাকি স্রেফ নির্বাচনী আশ্বাস হয়েই থেকে যাবে—তা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড়সড় প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *