কেন ‘একদন্ত’ বিঘ্নহর্তা? মহাভারত লেখার সময় কেন নিজের দাঁত ভেঙেছিলেন গণেশজি?

গণেশ উৎসব বা গণেশ চতুর্থীতে দেশজুড়ে পরম ভক্তি ভরে পূজিত হন বিঘ্নহর্তা গণেশ। সব প্রতিমা বা ছবিতেই গণেশজিকে একটি ভাঙা দাঁতসহ ‘একদন্ত’ রূপে দেখা যায়। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, কেন তাঁর একটি দাঁত ভাঙা? এর নেপথ্যে রয়েছে মহাভারত রচনার এক অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর ইতিহাস।
মহাভারত লেখার অনড় শর্ত
পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, মহর্ষি বেদব্যাস যখন মহাভারত মহাকাব্য রচনার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁর একজন দ্রুত গতিতে লিখতে পারা প্রতিভাবান লেখকের প্রয়োজন ছিল। তিনি ভগবান গণেশকে এই কাজের অনুরোধ জানান।
গণেশজি রাজি হলেও ব্যাসদেবের সামনে একটি কঠিন শর্ত রাখেন— একবার লেখা শুরু হলে ব্যাসদেবকে না থেমে একটানা শ্লোক বলে যেতে হবে। ব্যাসদেব মাঝপথে থেমে গেলে গণেশজিও লেখা বন্ধ করে দেবেন।
ব্যাসদেবও পাল্টা শর্ত দেন যে, প্রতিটি শ্লোকের অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝে নিয়েই তবেই গণেশজিকে তা লিখতে হবে। এই দুই শর্ত মেনে উত্তরাখণ্ডের চামোলী জেলার মানা গ্রামের ‘গণেশ গুহা’-য় বসে শুরু হয় ঐতিহাসিক মহাভারত লিখন।
হঠাৎ বিপত্তি ও চরম সিদ্ধান্ত
লেখা যখন তীব্র গতিতে চলছিল, ঠিক তখনই ঘটে অঘটন— গণেশজির হাতের কলমটি হঠাৎ ভেঙে যায়!
শর্ত অনুযায়ী এক মুহূর্তও থামা সম্ভব নয়। ব্যাসদেব একটানা শ্লোক বলে যাচ্ছেন। লেখার গতি ও কথা বজায় রাখতে গণেশজি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে নিজের একটি দাঁত নিজেই ভেঙে ফেলেন! সেই ভাঙা দাঁতকেই কালি ও কলম বানিয়ে তিনি মহাভারতের বাকি অংশ লিখে শেষ করেন।
গণেশজির এই অভূতপূর্ব একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও সংকল্প দেখে দেবতারা মুগ্ধ হন। লেখার কাজ সফলভাবে শেষ করার পর থেকেই ভগবান গণেশ বিশ্বজুড়ে ‘একদন্ত’ নামে পরিচিত লাভ করেন।