পুজোর মুখেই থালায় বিষ? কলকাতার ৪০টি নামী রেস্তোরাঁ সাসপেন্ড, বাজেয়াপ্ত ১.৫ টন পচা খাবার!

কলকাতা: সামনেই দুর্গাপুজো। উৎসবের দিনগুলোতে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ ও ফুড কোর্টে জমিয়ে খাওয়ার প্ল্যান করছেন? এখনই সতর্ক না হলে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন! পুজোর মুখে শহরের খাদ্য বিপণিগুলিতে অভিযান চালিয়ে ১.৫ টন (১,২২৪ কেজি) পচা ও বাসি খাবার বাজেয়াপ্ত করল কলকাতা পুরসভা (KMC)। চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অনিয়মের কারণে শহরের ৪০টি নামী রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে।
রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে আতঙ্কের চিত্র কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের নেতৃত্বে শহরের প্রায় ৫৯২টি প্রতিষ্ঠানে ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। সেখানে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তা চোখ কপালে তোলার মতো:
- পচা মাংস ও বাসি খাবার: একাধিক নামী দোকানে ফ্রিজে রাখা ছিল পচা মাংস ও ক্ষতিকারক বাসি খাবার।
- বিষাক্ত তেল ও রং: বারবার ফুটিয়ে বিষাক্ত হয়ে যাওয়া তেলে ভাজাভুজির মারাত্মক প্রবণতা নজরে এসেছে। পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছিল নিষিদ্ধ রং ও নিম্নমানের মশলা।
- অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর: বহু নামী প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘরের পরিবেশ এতটাই জঘন্য ছিল যা জনস্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
রাজ্যজুড়েও কঠোর পদক্ষেপ শুধু কলকাতা নয়, রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের পৃথক অভিযানেও রাজ্যজুড়ে ভীতিপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। রাজ্যের ৫,৪৩৯টি হোটেল ও খাবার দোকানে নজরদারি চালিয়ে ৪,৭২২টিতেই অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। ভেজাল পরীক্ষার জন্য ২,৭৫৮টি নমুনা সংগ্রহ করার পাশাপাশি ৯৮টি প্রতিষ্ঠানের বিক্রি বন্ধ এবং ৮০টি দোকান পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে।
উৎসবের মরসুমে বাইরে খাওয়ার ৫টি জরুরি টিপস:
১. পরিবেশ পরখ করুন: রেস্তোরাঁয় ঢুকে শুধু সাজসজ্জা নয়, মেঝে, টেবিল ও কাউন্টারের পরিচ্ছন্নতা দেখুন। মাছি, দুর্গন্ধ বা তেলচিটে ভাব থাকলে এড়িয়ে চলুন। ২. খাবারের ঢাকনা খেয়াল রাখুন: বুফে বা কাউন্টারের খাবার সঠিকভাবে ঢাকা রয়েছে কি না এবং গরম খাবার পর্যাপ্ত গরম রাখা হচ্ছে কি না নজর দিন। ৩. গন্ধ ও রঙের তারতম্য: মাছ, মাংস বা ডিমে সামান্যতম বাসি বা পচা গন্ধ পেলে তা খাবেন না। ৪. পোড়া তেলের খাবার এড়িয়ে চলুন: খাবার অতিরিক্ত কালচে বা পোড়া তেলের কড়া গন্ধযুক্ত হলে সেই ভাজাভুজি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ৫. কাঁচা ও রান্না করা খাবার: কাঁচা মাংস ও রান্না করা খাবার পাশাপাশি খোলা রাখা থাকলে তা থেকে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে।