‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ক: পুরো নয়, গাওয়া যাবে মাত্র ২টি স্তবক! কর্ণাটক সরকারের সিদ্ধান্তে তুঙ্গে রাজনীতি

জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার নিয়ম কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ফের চড়ল রাজনীতির পারদ। রাজ্যের সরকারি অনুষ্ঠানগুলিতে বন্দে মাতরম গাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় নির্দেশিকা জারি করেছে কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার। কেন্দ্রের প্রচলিত নিয়মকে পাশে রেখে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে—এখন থেকে সরকারি কর্মসূচিতে এই ঐতিহাসিক গীতটির সম্পূর্ণ ৬টি স্তবকের বদলে কেবল প্রথম ২টি স্তবকই গাওয়া হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই সুর চড়িয়েছে বিরোধী দল বিজেপি। ঘটনার জেরে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি।
কী রয়েছে কর্ণাটক সরকারের নতুন নির্দেশে? কর্ণাটকের কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার বিভাগের ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যপালের উপস্থিতিতে আয়োজিত বিশেষ কর্মসূচি বাদে রাজ্যের অন্যান্য সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরমের কেবল প্রথম দুটি স্তবক গাওয়া হবে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটিও ১৯৩৭ সালের একটি পুরনো সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে দলীয় সমস্ত অনুষ্ঠানে গানটির প্রথম দুটি পদ গাওয়ার কথা জানিয়েছিল।
১৯৩৭ সালের ঐতিহাসিক ফর্মুলা বনাম কেন্দ্রের নিয়ম কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নিয়ম ও সাম্প্রতিক সংসদীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি ও জনসমাবেশে পুরো বন্দে মাতরম গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক এবং এতে বিঘ্ন ঘটানো অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে কংগ্রেসের দাবি—১৯৩৭ সালে মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু এবং সর্দার প্যাটেলের মতো দেশের মহান নেতাদের উপস্থিতিতে নেওয়া ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ। সম্প্রতি গোয়ায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে গানটির সংক্ষিপ্ত সংস্করণ গাওয়ায় বিতর্কের মুখে পড়ে সাফাই দিয়ে বলেছিলেন—যদি এটি অপরাধ হয়, তবে অতীতে দেশের প্রবীণ জাতীয় নেতারাও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তোপ বিজেপির: ‘সংবিধান ও জাতীয় মর্যাদার অবমাননা’ কর্ণাটক সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অলআউট আক্রমণে নেমেছে বিজেপি। এক বিবৃতিতে গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, সংসদের গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কংগ্রেস সরাসরি সংবিধান ও দেশের আত্মমর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করছে। বিজেপির প্রশ্ন—বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের এই অমর সৃষ্টি এবং তার বাকি অংশগুলি নিয়ে কংগ্রেসের কেন এত আপত্তি? স্বাধীনতা আন্দোলন ও দেশভক্তির প্রতীক এই গান নিয়ে রাজনীতি না করে সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করার কড়া দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল।