২১ দেশের রাষ্ট্রনেতা, ৮০টি হাই-সিকিউরিটি কনভয়: দিল্লির যানজটের নেপথ্যে আসল সত্যিটা কী?

২১ দেশের রাষ্ট্রনেতা, ৮০টি হাই-সিকিউরিটি কনভয়: দিল্লির যানজটের নেপথ্যে আসল সত্যিটা কী?

ভারতে আয়োজিত ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির ট্রাফিক ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি নিয়ে জোর চর্চা চলছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাস্তার মোড়—সবত্রই সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। তবে এই সাময়িক যানজট এবং ট্রাফিক বিধিনিষেধকে কেবল একটি সাধারণ সমস্যা হিসেবে না দেখে, আন্তর্জাতিক কূটনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপট থেকে বোঝা প্রয়োজন।

ভারত ঠিক কত বড় মাপের এবং কতটা সংবেদনশীল একটি আন্তর্জাতিক মেগা ইভেন্ট সফলভাবে পরিচালনা করছে, তার পরিধি অনুধাবন করা জরুরি।

কেন স্তব্ধ হচ্ছে দিল্লির পথঘাট?

চলতি সম্মেলনে ব্রিকসের ১১টি সদস্য দেশ, ১০টি পার্টনার দেশ এবং একাধিক আমন্ত্রিত প্রতিনিধিদলের শীর্ষ প্রধানরা যোগ দিয়েছেন। কূটনৈতিক প্রটোকল অনুযায়ী, প্রতিটি রাষ্ট্রনেতার গতিবিধি অত্যন্ত সংবেদনশীল।

এক একজন ভিভিআইপি নেতাকে দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার বিমানবন্দর থেকে হোটেল, ভেন্যু এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করতে হয়। ফলে যা আপাতদৃষ্টিতে কয়েকটি কনভয় মনে হচ্ছে, বাস্তবে দিনে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি হাই-সিকিউরিটি রুট পরিচালনা করতে হচ্ছে প্রশাসনকে। প্রতিটি রুট সুরক্ষিত রাখতে ট্রাফিক সাময়িকভাবে থামানো ছাড়া অন্য উপায় থাকে না, যার জেরে সাধারণ নিত্যযাত্রীদের এই বাড়তি চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও বিশ্বমঞ্চে ভারতের উর্ধ্বমুখী অবস্থান

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্বনেতাদের নিরাপত্তার ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেশি। ভারতের আমন্ত্রণে আসা বিদেশি অতিথিদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেওয়া আয়োজক দেশ হিসেবে দিল্লির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বিশ্বের যেকোনো উন্নত দেশের রাজধানীতেই এই ধরনের আন্তর্জাতিক সামিট আয়োজনের সময় সুরক্ষিত ট্রাফিক করিডোর তৈরি করা একটি সাধারণ নিয়ম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ভারতের প্রভাব যত বাড়ছে, দিল্লি তত বেশি আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠছে। সাময়িক এই ভোগান্তি মূলত বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী উপস্থিতিরই এক বাস্তব প্রতিফলন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *