ট্রাম্পের থেকেও বেশি ‘স্যালারি’! বছরে ২৭ কোটি টাকা পাবেন এই দেশের প্রধানমন্ত্রী
সিঙ্গাপুর: কর্পোরেট জগতে চাকরি বদল করলেও এক লাফে ৬৪ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি (Salary Hike) সচরাচর দেখা যায় না। কিন্তু এবার সেই অসাধ্যই সাধিত হলো রাজনৈতিক অলিন্দে। ট্রাম্প, রিশি সুনাক কিংবা নরেন্দ্র মোদী—বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রপ্রধানদের বেতনের নিরিখে বহুদূরে ফেলে দিলেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়াং (Lawrence Wong)।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেতন বেড়ে হতে চলেছে ৩.৬ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা বছরে প্রায় ২৭.১ কোটি টাকা)। আগে তাঁর বার্ষিক বেতন ছিল ২.২ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ১৬.৬ কোটি টাকা)।
বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের বেতনের তুলনা (বছরে)
- সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী (লরেন্স ওয়াং): প্রায় ২৭.১ কোটি টাকা
- সুইৎজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট: প্রায় ৫.৮ কোটি টাকা
- আমেরিকার প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প): প্রায় ৩.৮ কোটি টাকা
- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী: প্রায় ২.২ কোটি টাকা
- ভারতের প্রধানমন্ত্রী (নরেন্দ্র মোদী): প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা (মাসে প্রায় ২ লক্ষ টাকা)
(নোট: বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা আলাদা হওয়ায় মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করেই এই হিসাব করা হয়েছে।)
কেন এক ধাক্কায় ৬৪% বেতন বৃদ্ধি?
সিঙ্গাপুর সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের রাজনীতি ও প্রশাসনে ধরে রাখতে এবং বেসরকারী ক্ষেত্রের উচ্চপদের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।
এই বেতন নির্ধারণের জন্য ‘MR4 Benchmark’ অনুসরণ করা হয়। সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বেশি আয় করা ১,০০০ জনের গড় আয়ের (Median Income) ওপর ভিত্তি করে এটি তৈরি করা হয়। তবে জনসেবার কথা মাথায় রেখে সেই বেঞ্চমার্কের ওপর ৪০% ছাড় বা ছাড় ছাড়িয়া নির্দিষ্ট করা হয় মূল স্যালারি প্যাকেজ। দেড় দশক পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এই বেঞ্চমার্ক পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
বেতন বৃদ্ধির টাকা দান করবেন প্রধানমন্ত্রী
নিজের বেতন ৬৪% বাড়লেও সেই বাড়তি অর্থ নিজের পকেটে পুরছেন না লরেন্স ওয়াং। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৫ বছর তাঁর বর্ধিত বেতনের পুরো অংশটিই তিনি সামাজিক কাজে দান করবেন। তবে অন্যান্য মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে এমন বাধ্যবাধকতা রাখছেন না তিনি।
অন্যান্য মন্ত্রী ও সাংসদদের কী অবস্থা?
শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, দেশটির অন্যান্য মন্ত্রী, সাংসদ, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও মেয়রদের বেতনও সর্বোচ্চ ৯% পর্যন্ত বাড়তে চলেছে। কাজের দায়িত্ব ও দক্ষতার ওপর নির্ভর করে এই বেতন বণ্টন হবে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১২ সালে জনরোষের মুখে পড়ে সিঙ্গাপুরের মন্ত্রীদের বেতন প্রায় ৩৬% কমানো হয়েছিল। ২০১৭ সালে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি, যা কার্যকর হচ্ছে এই বছরে।