“অন্যায় দেখেও চুপ ছিলাম, সাহস দেখাতে পারিনি”: আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে বিধানসভায় চরম আক্ষেপ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রবীণ রাজনীতিক তথা প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ ড. আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে আয়োজিত শোকপ্রস্তাব ঘিরে তৈরি হলো এক চরম আবেগঘন ও বিতর্কিত পরিবেশ। চার দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ‘অজাতশত্রু’ হিসেবে পরিচিত এই নেতার আকস্মিক ও অস্বাভাবিক পরিণতিতে শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষের বিধায়কদের কণ্ঠেই ঝরে পড়ল তীব্র আক্ষেপ ও ক্ষোভ।
স্মৃতিচারণায় ‘শেষ নোট’ ও না-বলা যন্ত্রণা
রামপুরহাটের পাঁচবারের বিধায়ক তথা ৭৫ বছর বয়সী প্রবীণ শিক্ষাবিদ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৬ অগস্ট প্রয়াত হন। বিধানসভায় তাঁর স্মরণে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রবীণ মন্ত্রী তাপস রায় জানান, মৃত্যুর কিছুদিন আগে বীরভূমের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও তৎকালীন শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে বহু না-বলা ক্ষোভের কথা তাঁর কাছে ব্যক্ত করেছিলেন আশিসবাবু।
মৃত্যুর মাত্র দু’দিন আগে, ১৪ অগস্ট তিনি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে তাঁর অধীনে কর্মরত কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণ নিয়ে গভীর চিন্তা প্রকাশ করেছিলেন। ঋতব্রতের দাবি অনুযায়ী, প্রয়াত নেতা তাঁর ‘শেষ নোটে’ অত্যন্ত অনুশোচনা করে লিখে গিয়েছিলেন— “অন্যায় দেখেও চুপ করে থাকতে হয়েছে, সাহস দেখাতে পারিনি।”
হুমকির অভিযোগ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিধানসভায় জানান, মৃত্যুর আগে কোনো এক পক্ষ থেকে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে কদর্য ভাষায় মানসিক চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলে। এমনকি নিজের পরিবারের কাউকেই আর রাজনীতিতে না আসার অনুরোধ জানিয়ে গিয়েছেন এই প্রবীণ রাজনীতিক, যা উপস্থিত সমস্ত বিধায়কদের গভীরভাবে ব্যথিত করে।
পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ ও আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকী প্রয়াত নেতার অসামান্য নিরপেক্ষতার প্রশংসা করেন। তবে নৌশাদ সিদ্দিকী এই অস্বাভাবিক প্রয়াণের নেপথ্যে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি তোলেন। আলোচনা শেষে বিধানসভার সকল সদস্য এক মিনিট নীরবতা পালন করে প্রয়াত ড. আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানান।