‘একদিনে ফায়ার লাইসেন্স মিলবে কীভাবে?’ ক্যামাক স্ট্রিট মামলায় বিচারপতির পর্যবেক্ষণ

‘একদিনে ফায়ার লাইসেন্স মিলবে কীভাবে?’ ক্যামাক স্ট্রিট মামলায় বিচারপতির পর্যবেক্ষণ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৯ ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস খালি করার নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। ফলে আপাতত ওই কার্যালয় ছাড়তে হচ্ছে না তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে। শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, দমকল বিভাগের ওই নোটিসের ভিত্তিতে আপাতত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ করা যাবে না। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর এই মামলার রায় ঘোষণা করবে বেঞ্চ।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই

ক্যামাক স্ট্রিটের ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলায় পর্যাপ্ত অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা নেই— এই অভিযোগ তুলে ভবনের মালিককে সম্প্রতি নোটিস পাঠায় রাজ্য দমকল বিভাগ। তার ভিত্তিতে মালিকপক্ষ অভিষেকদের দফতর খালি করতে নির্দেশ দিলে জল গড়ায় আদালতে। দমকলের নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট শিবির।

শুক্রবার শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী কিশোর দত্ত সওয়াল করেন, ভবনের ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব ভবন মালিকের, ভাড়াটিয়ার নয়। তা সত্ত্বেও চিহ্নিত ত্রুটিগুলির মধ্যে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডারগুলি ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিত মিত্র যুক্তি দেন, ওই তলাগুলিতে ফায়ার অ্যালার্ম কাজ করছিল না এবং স্প্রিংক্লারের সংখ্যাও ছিল প্রয়োজনের তুলনায় কম।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণ রাও মন্তব্য করেন, “ফায়ার লাইসেন্স পেতে সময় লাগে, একদিনে তা হয় না।” উত্তর বা ব্যবস্থা নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে হঠাৎ করে দফতর খালি করার নির্দেশ দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

দমকলের নিজস্ব নথিতেই উল্লেখ রয়েছে, ভবনের ফায়ার লাইসেন্সের মেয়াদ গত ১০ আগস্ট ফুরিয়ে গিয়েছিল এবং তা পুনর্নবীকরণের দায় ছিল মালিকপক্ষের। এ সংক্রান্ত শুনানিতে অভিষেকের প্রতিনিধিরা নথিপত্রসহ উপস্থিত হলেও মালিকপক্ষ এড়িয়ে যান। সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দমকলের নির্দেশে স্থগিতাদেশ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *