“ডান নাকি বাঁ?” ঘরে গণেশ মূর্তি আনার আগে শুঁড়ের দিকটি পরখ করেছেন তো?

“ডান নাকি বাঁ?” ঘরে গণেশ মূর্তি আনার আগে শুঁড়ের দিকটি পরখ করেছেন তো?

সামনেই গণেশ চতুর্থী, আর ঘরে ঘরে বপ্পাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। কিন্তু বাজার থেকে গণেশ মূর্তি কেনার সময় আপনি কি মূর্তির শুঁড়ের দিকের খেয়াল রেখেছেন? বাস্তুশাস্ত্র ও শাস্ত্রীয় মতে, মূর্তির শুঁড় বাঁদিকে, ডানদিকে নাকি একদম সোজা রয়েছে—তা কোনো সাধারণ নকশা নয়। এর প্রতিটি রূপের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য।

শুঁড়ের দিক অনুযায়ী গণেশ মূর্তির তাৎপর্য:

  • বাঁমুখী গণেশ (বাঁ দিকে শুঁড়): সাধারণ গৃহস্থের জন্য এই মূর্তি সবচেয়ে আদর্শ ও মঙ্গলজনক। বাঁ দিক হলো চন্দ্র নাড়ির প্রতীক, যা শান্ত ও শীতল শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। এই রূপের গণেশ অল্প পুজোতেই তুষ্ট হন এবং সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখেন। ঘরের উত্তর-পূর্ব কোণে (ঈশান কোণ) এই মূর্তি রাখা সবচেয়ে শুভ।
  • দক্ষিণমুখী গণেশ (ডান দিকে শুঁড়): এটি সূর্য নাড়ির প্রতীক, যা অত্যন্ত তেজস্বী ও জাগ্রত। এই সিদ্ধিদাতা দ্রুত ফলদান করলেও তাঁর পুজোর নিয়মকানুন অত্যন্ত কঠিন। পুজোয় সামান্য ত্রুটি হলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সাধারণ গৃহস্থালির চেয়ে মন্দির বা সাধনা গৃহেই এই মূর্তি রাখা শ্রেয়।
  • সুষুম্না গণেশ (সোজা শুঁড়): এটি বেশ বিরল একটি রূপ, যা সুষুম্না নাড়ির প্রতীক। ঘরের যেকোনো গভীর বাস্তুদোষ ও নেতিবাচক শক্তি দূর করতে এই মূর্তি অত্যন্ত কার্যকর। যাঁরা ধ্যান, যোগসাধনা বা আধ্যাত্মিক চর্চায় যুক্ত, তাঁদের জন্য সোজা শুঁড়ের গণেশ দারুণ উপকারী।

গৃহস্থের জন্য কোনটা সেরা?

আপনি যদি সাধারণ গৃহস্থ হন এবং প্রতিদিন কঠোর নিয়ম বা জাঁকজমক মেনে পুজো করা সম্ভব না হয়, তবে চোখ বন্ধ করে বাঁ দিকে শুঁড় বাঁকানো গণেশ মূর্তি বাড়িতে নিয়ে আসুন। এতেই বিঘ্নহর্তার কৃপায় আপনার সংসার আনন্দ ও প্রাচুর্যে ভরে উঠবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *