আমেরিকায় ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’? ভোটে জিতলেই সবাইকে ৫০০০ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের!

আমেরিকায় ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’? ভোটে জিতলেই সবাইকে ৫০০০ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নগদ অনুদান বা ভাতার ঘোষণা কোনো নতুন বিষয় নয়। ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, ‘কন্যাশ্রী’ থেকে শুরু করে বিজেপির প্রস্তাবিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’—ভোটারদের মন জয়ে অনুদান প্রকল্পের সাফল্য নজর কেড়েছে সব দলেরই। এবার যেন সেই একই কৌশলের ছায়া দেখা গেল মার্কিন রাজনীতির ময়দানেও। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন নাগরিকদের জন্য এক বিশাল আর্থিক অনুদানের কথা ঘোষণা করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির এক সম্মেলনে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি জয়ী হয়ে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫,০০০ ডলার করে দেওয়া হবে। এই আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের নাম তিনি দিয়েছেন ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’। ট্রাম্পের বার্তা স্পষ্ট—রিপাবলিকানদের জয় মানেই নাগরিকদের ঘরে নগদ অর্থের আগমন।

তবে এই বিপুল অর্থ কোত্থেকে আসবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা দেননি ট্রাম্প। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে অন্তত ১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে। অর্থনৈতিক অনিয়মের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, মার্কিন অর্থনীতি বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দেশ প্রচুর রাজস্ব উপার্জন করছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই চরম সুবিধাজনক ঘোষণার পেছনে রয়েছে রিপাবলিকানদের ক্রমবর্ধমান চাপ। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে ট্রাম্পের দল। লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। ‘ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ’-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ২৩০টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে, যেখানে রিপাবলিকানদের আসন ২০৫-এ নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি সেনেটেও ডেমোক্র্যাটরা ৫১-৪৯ ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বাণিজ্যনীতি নিয়েও মুখ খোলেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করে তিনি দাবি করেন, ইরান দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, তাই তাদের আটকানো জরুরি ছিল। এই সংঘাতের প্রভাবেই তেলের বাজার ও মার্কিন অর্থনীতি সাময়িক ধাক্কা খেয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম কমবে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অংশীদারদের উপর উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে ট্রাম্প জানান, স্বল্পমেয়াদি এই অর্থনৈতিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন অর্থনীতিকে আরও স্বাবলম্বী করে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *