বিরিয়ানিতে মারণ রং! শহরের ৮০ রেস্তোরাঁয় পুরসভার আচমকা হানা

বিরিয়ানিতে মারণ রং! শহরের ৮০ রেস্তোরাঁয় পুরসভার আচমকা হানা

উৎসবের মরশুমের মুখেই শহরের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কলকাতা পুরসভা। গত দুই সপ্তাহে শহরের বিভিন্ন প্রান্তের অন্তত ৮০টি রেস্তোরাঁয় আচমকা অভিযান চালিয়ে পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা প্রায় ১৬৩টি খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। সংগৃহীত সব উপাদান আপাতত পুরসভার ল্যাবরেটরিতে কড়া পরীক্ষার অধীনে রয়েছে।

বিরিয়ানিতে মারণ রঙের ব্যবহার পরীক্ষায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে বিরিয়ানি নিয়ে। বিরিয়ানিকে আকর্ষণীয় ও উজ্জ্বল দেখাতে অনেক নামী-বেনামী দোকানেই মেটানিল ইয়েলোর (Metanil Yellow) মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক রং ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত মেটানিল ইয়েলো মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি সেবনে মৃত্যুর ঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি হতে পারে।

পচা মাংস, ছত্রাক ও দুধে ভেজাল অভিযানের তালিকায় বিরিয়ানির পাশাপাশি চপ, নুডলস, মশলা, মিষ্টি ও ফ্রোজ়েন মাংস রয়েছে। অনেক রেস্তোরাঁয় কম দামে একবারে অতিরিক্ত মাংস কিনে মজুত করার ফলে তাতে ক্ষতিকর ছত্রাক জন্মে যেতে দেখা গিয়েছে। মিষ্টির দোকানেও একই পরিস্থিতি। এছাড়া দুধে অতিরিক্ত জল মিশিয়ে তা ঘন করার জন্য বেআইনি উপাদান মেশানোর প্রমাণও পেয়েছেন আধিকারিকরা।

তিন ধাপে নমুনার পরীক্ষা কলকাতা পুরসভা সংগৃহীত সমস্ত খাবারের নমুনাকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করছে:

  • স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক: যে খাবার খেলে সরাসরি বড় রোগের ঝুঁকি থাকে।
  • নিম্নমানের খাদ্য: যা গুণগত মানে উত্তীর্ণ নয়।
  • অনুমোদিত মাত্রার অতিরিক্ত উপাদান: মিষ্টি বা বিস্কুটে সহনশীল মাত্রার চেয়ে বেশি রং বা রাসায়নিকের ব্যবহার।

জেলা ও শহরতলিতে ব্যাপক প্রভাব পুরসভার এই সাঁড়াশি অভিযানের পর কেবল কলকাতা নয়, উত্তর ২৪ পরগনা সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির মিষ্টি ব্যবসায়ীদের মধ্যেও তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আইনি পদক্ষেপ থেকে বাঁচতে অনেক দোকানই রঙিন মিষ্টি প্রস্তুত করা বন্ধ করে দিয়েছে। উৎসবে যে হলুদ বোঁদে বা রঙিন লাড্ডু বিক্রি হতো, তার জায়গায় এখন স্রেফ সাদা মিষ্টি তৈরিতেই প্রাধান্য দিচ্ছেন কারিগররা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *