তারাতলা বিপর্যয়: অবশেষে সিটের জালে পুরসভার সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার

তারাতলায় ভয়াবহ গুদাম বিপর্যয় ও ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর হাতে গ্রেফতার হলেন কলকাতা পুরসভার সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর শেখ। শুক্রবার রাতে বাঁশদ্রোণী থানা এলাকার গড়িয়ার একটি আবাসন থেকে তাঁকে পাকড়াও করে সিট। ধৃত আমিনুর শেখ তারাতলা সংলগ্ন কলকাতা পুরসভার ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের বিল্ডিং ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।
গত ২০ জুন তারাতলায় প্রায় ২০ হাজার বর্গফুটের একটি নির্মীয়মাণ গুদামের বিশালাকার কাঠামো হঠাৎ ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে প্রাণ হারান ১৬ জন শ্রমিক। শহরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ানো এই ঘটনার পরই সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ এবং কলকাতা পুলিশের দল যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালায়। ঘটনার মূল কারণ ও দায়বদ্ধতা নির্ধারণে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ আসার পর লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, গুদামের নকশা অনুমোদন ও নির্মাণপ্রক্রিয়ায় পুরসভার ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের অনুমোদিত পরিকাঠামোগত নকশা হুবহু মেনে কাজ হচ্ছিল কি না, নাকি নিয়মনীতি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেআইনি নির্মাণ করা হয়েছিল—তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। পাশাপাশি ভবনের উপকরণের গুণমান, নকশা পাসের নেপথ্যে কোনো অবৈধ আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না এবং অন্যান্য কর্তাদের গাফিলতিও তদন্তের আতশকাচের নিচে রয়েছে।
এর আগে এই মামলায় তৎকালীন মেয়রের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দুই শ্রমিক সরবরাহকারী ও এক গুদাম সুপারভাইজারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এবার পুরসভার সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর শেখকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে সিট। তদন্তকারীদের আশা, তাঁকে জেরা করে নকশা বিতর্ক ও গুদাম বিপর্যয়ের নেপথ্যচক্রের আরও গভীরে পৌঁছানো সম্ভব হবে।