ফিলিস্তিন ও ইরান নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত! কী বলছে নয়াদিল্লি ঘোষণা?
September 13, 20262:35 pm

নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে ‘নয়া দিল্লি ঘোষণা ২০২৬’। পশ্চিম এশিয়ার জটিল সংকটের মাঝেও বিভিন্ন দেশের পরস্পরবিরোধী অবস্থান কাটিয়ে এই ঘোষণাপত্র আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক বিরাট কূটনৈতিক মোড় এনে দিয়েছে।
নয়া দিল্লি ঘোষণার ৫টি প্রধান দিক:
- পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিরোধিতা: ইরানের পরমাণু ও নাগরিক পরিকাঠামোয় যেকোনো ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি এজেন্সির সুরক্ষাবলয়ের মধ্যে থাকা শান্তিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
- লেবানন ও সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার: লেবানন থেকে অবিলম্বে ইজরায়েলি সেনা সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব কার্যকর করা এবং সিরিয়া থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- জেরুজালেমের মর্যাদা রক্ষা: পবিত্র শহর জেরুজালেমের ঐতিহাসিক ও আইনি অবস্থাকে একপেশেভাবে বদলানোর প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রিকস। সমস্ত ধর্মীয় স্থানের মর্যাদা রক্ষা এবং নির্বিঘ্নে প্রার্থনার অধিকার সুনিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
- ফিলিস্তিনের পূর্ণ সমর্থন: ইজরায়েলি-ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানে ‘দ্বি-রাষ্ট্র তত্ত্ব’-এর পক্ষে জোরালো সওয়াল করা হয়েছে। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ এবং গাজা থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ: সম্মেলনের মঞ্চেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের হাই-প্রোফাইল বৈঠক পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বৈরিতা ভুলে এই সখ্যতা অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর পথ আরও প্রশস্ত করবে।