পিতৃপক্ষ মানে কি শুধুই পূর্বপুরুষদের স্মরণ? লুকিয়ে আছে গভীর রহস্য!

পিতৃপক্ষ বলতেই সাধারণ মানুষের মনে ভেসে ওঠে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের তর্পণ, শ্রাদ্ধ আর পিণ্ডদানের চেনা ছবি। তবে হিন্দু সনাতন ধর্মে এই বিশেষ সময়টির আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আরও অনেক গভীরে। চলতি বছর পিতৃপক্ষ ২৬শে সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে আগামী ১০ই অক্টোবর সর্বপিত্রি অমাবস্যার মাধ্যমে শেষ হবে।
শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিটি মানুষ জন্ম থেকেই তিনটি প্রধান ঋণে আবদ্ধ থাকে—দেব ঋণ, ঋষি ঋণ এবং পিতৃ ঋণ। তাই পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল অর্পণ করার আগে ঋষিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার প্রাচীন নিয়ম রয়েছে। সনাতন ধর্মে তর্পণের অর্থ শ্রদ্ধার সঙ্গে জল নিবেদন করা। দেবতা, ঋষি এবং পূর্বপুরুষদের তর্পণের রীতি সম্পূর্ণ আলাদা। ঋষি তর্পণের মাধ্যমে স্মরণ করা হয় সেই মহান সাধকদের, যাঁরা প্রাচীনকালে জ্ঞান, ধর্ম এবং বৈদিক ঐতিহ্যের বিস্তার ঘটিয়েছিলেন।
ধর্মীয় দর্শন অনুযায়ী, ভাদ্রপদ পূর্ণিমার দিনটি ঋষিদের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানানোর জন্য অত্যন্ত মাহেন্দ্রক্ষণ। এর পরপরই শুরু হয় পূর্বপুরুষদের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। এর মূল দর্শন হলো, শ্রাদ্ধের বৈদিক আচার-অনুষ্ঠান মূলত ঋষিদের অবদানের ওপরই প্রতিষ্ঠিত। তাই প্রথা মেনে আগে ঋষিগণকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তারপর পরিবারের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা হয়।
ঋষিদের বন্দনায় সনাতন ধর্মে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় সপ্তর্ষিদের—কশ্যপ, অত্রি, ভরদ্বাজ, বিশ্বামিত্র, গৌতম, জমদগ্নি এবং বশিষ্ঠ। ঋষি পঞ্চমী তিথিতে এই সপ্তর্ষিদের পূজা ও শ্রদ্ধা জানানোর বিধান রয়েছে। পিতৃপক্ষের এই পুরো সময়টিতে পূর্বপুরুষদের পাশাপাশি ঋষি ঐতিহ্যকে স্মরণ করা মানবজীবনের এই অবর্ণনীয় আধ্যাত্মিক ঋণ পরিশোধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথ।