কথার দিন শেষ, চাই দ্রুত ফল: ব্রিকস সম্মেলনে মোদীর কড়া বার্তা

আলোচনার দিন শেষ, এবার সরাসরি মাঠে নেমে কাজ ও দ্রুত ফলাফলের সময়। নিউ দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী দিনে বিশ্বমঞ্চে এক স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ব্রিকস আর কেবল কয়েকটি দেশের গতানুগতিক আলোচনার মঞ্চ নয়; বরং বিশ্ব জোড়া নানা জটিল সংকট সমাধানের এক কার্যকর ‘ইকোসিস্টেম’।
সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এই ধরণের সংকীর্ণ পদক্ষেপ উন্নয়নশীল দেশগুলির সম্মিলিত অগ্রগতিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। তাই বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির সমান অধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি।
বিশ্ব অর্থনীতি ও উদ্ভাবনে গতি আনতে এদিনের সম্মেলন থেকে একাধিক নতুন দিকনির্দেশনা পেশ করেছেন মোদী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ‘ব্রিকস লজিস্টিক সাপ্লাই চেইন কো-অপারেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ এবং তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য ‘ব্রিকস স্টার্টআপ ইনোভেশন ফান্ড’। পাশাপাশি, ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থার ব্যাপক প্রসারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ভূ-স্থানিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে বড় ভূমিকা নেবে।
সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ঐতিহাসিক ‘নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’-এর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি আজ ব্রিকসের ওপর পূর্ণ ভরসা রাখছে, কারণ এই মঞ্চে প্রতিটি রাষ্ট্রের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে সমান মর্যাদা দেওয়া হয়। ব্রিকস এখন তার তৃতীয় দশকে পা রাখছে, ফলে বিশ্বের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। কেবল প্রতিশ্রুতি বা ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্থ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি। পরিশেষে, ব্রিকসের পরবর্তী আয়োজক দেশ হিসেবে চীনকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।