ফ্রিজে স্ত্রীর কাটা মাথা! পুলিশের গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে খতম অভিযুক্ত

ফ্রিজে স্ত্রীর কাটা মাথা লুকিয়ে রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত রামানুজ গোস্বামীর রহস্যমৃত্যু ঘটেছে। সোমবার ভোরে চিকিৎসার পর হাতিগাঁও থানায় ফেরার পথে চলন্ত পুলিশি গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গাড়ি চলাকালীন পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে খাদে ঝাঁপ দেন ওই অভিযুক্ত। গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটির নরকাসুর পাহাড় এলাকার একটি ভাড়াবাড়ি থেকে ২৫ বছরের রিয়া তালুকদারের খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ফ্রিজের ভেতর কালো পলিথিন ব্যাগ থেকে রিয়ার কাটা মাথা ও আঙুল এবং একটি রক্তমাখা দা উদ্ধার করে। স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানো হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছিল পুলিশ। এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর নিজেই থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন ৩০ বছরের রামানুজ।
গত ৮ সেপ্টেম্বর ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় রামানুজের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। উল্টো তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে রিয়ার কথিত প্রেমিককে খুন করার হুমকি দিয়েছিলেন। নিহত তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, মদ্যপান ও মাদকাসক্তির পাশাপাশি অতীতে আর্থিক প্রতারণার মামলা লুকিয়ে রামানুজ বিয়ে করেছিলেন। তবে বিচার শুরু হওয়ার আগেই পুলিশি হেফাজত থেকে এভাবে আসামির পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং রহস্যজনক মৃত্যু পুরো ঘটনাটিকে একপেশে ও জটিল করে তুলেছে।