OTP ছাড়াই সাফ হচ্ছে ব্যালেন্স! UPI জালিয়াতির এই ৫টি নতুন ফাঁদ চিনে নিন

OTP ছাড়াই সাফ হচ্ছে ব্যালেন্স! UPI জালিয়াতির এই ৫টি নতুন ফাঁদ চিনে নিন

অনলাইন পেমেন্টের যুগে ডিজিটাল লেনদেন যেমন সহজ হয়েছে, তেমনই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সাইবার অপরাধ। PhonePe, Google Pay, Paytm কিংবা BHIM-এর মতো UPI অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ওপর এখন নজর পড়েছে প্রতারকদের। সাম্প্রতিক সাইবার ক্রাইম রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ছয় মাসে UPI সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রায় ৩৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হলো, এখন আর কোনো OTP (One-Time Password) ছাড়াই খালি করে দেওয়া হচ্ছে গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট।

সুরক্ষিত থাকতে প্রতারকদের ৫টি নতুন কৌশল এবং সেগুলি থেকে বাঁচার উপায় জেনে নেওয়া জরুরি:

প্রতারকদের ৫টি নতুন ফাঁদ

  • ভুয়ো ‘কানেক্ট/কালেক্ট’ রিকোয়েস্ট (Collect Request Scam): বর্তমানে এই কৌশলেই সবচেয়ে বেশি প্রতারণা হচ্ছে। অ্যাপে একটি নোটিফিকেশন আসে, যেখানে ১ বা ২ টাকা পাঠানোর বিনিময়ে বড় অঙ্কের ক্যাশব্যাক বা লটারির টোপ দেওয়া হয়। গ্রাহক সেই টাকা ক্যাশব্যাক ভেবে UPI PIN দিতেই অ্যাকাউন্ট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হয়। মনে রাখবেন: টাকা পাওয়ার জন্য কখনো পিন (PIN) দিতে হয় না; পিন শুধু টাকা পাঠানোর জন্যই প্রয়োজন।
  • স্ক্রিন শেয়ারিং অ্যাপের প্রলোভন: ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা সেজে ফোন করে জানানো হয় যে, কাস্টমার কেওয়াইসি (KYC) আপডেট না করলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর সমাধান হিসেবে AnyDesk বা TeamViewer-এর মতো স্ক্রিন শেয়ারিং অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয়। অ্যাপটি ইনস্টল করলেই ফোনের স্ক্রিন প্রতারকদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং টাইপ করা পিন দেখে নিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
  • ভুয়ো QR কোড স্ক্যান: OLX, Facebook Marketplace ইত্যাদিতে কোনো জিনিস কেনাবেচার সময় ক্রেতা সেজে হোয়াটসঅ্যাপে QR কোড পাঠানো হয়। বলা হয়, কোডটি স্ক্যান করলেই টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে। কিন্তু বাস্তবে স্ক্যান করে পিন দিলেই টাকা কেটে নেওয়া হয়। মনে রাখবেন: QR কোড কেবল টাকা পাঠানোর জন্যই স্ক্যান করা হয়, টাকা পাওয়ার জন্য নয়।
  • গুগলে ভুয়ো কাস্টমার কেয়ার নম্বর: কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে গ্রাহকরা প্রায়ই গুগলে কাস্টমার কেয়ার নম্বর খোঁজেন। সেখানে থাকা ভুয়ো নম্বরে ফোন করলে প্রতারকরা নানা অজুহাতে লিঙ্ক পাঠায়। সেই লিঙ্কে ক্লিক করলেই ফোন হ্যাক হয়ে যায়।
  • বিপজ্জনক APK ফাইল: হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামে সরকারি প্রকল্প (যেমন: পিএম কিষাণ) বা বিদ্যুৎ বিল মেটানোর কথা বলে APK ফাইল পাঠানো হয়। এসব ফাইল ইনস্টল করলে ফোনের মেসেজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিয়ন্ত্রণ সাইবার অপরাধীদের হাতে চলে যায়।

সুরক্ষিত থাকতে কী করবেন?

১. অচেনা কোনো ‘Collect Request’ এলে সাথে সাথে তা রিজেক্ট (Decline) করুন।

২. অ্যাকাউন্টে টাকা পাওয়ার জন্য কখনো পিন (PIN) টাইপ করবেন না।

৩. অচেনা কারও নির্দেশে ফোনে স্ক্রিন শেয়ারিং অ্যাপ কিংবা কোনো মেসেজে আসা APK ফাইল ইনস্টল করবেন না।

৪. গুগলে পাওয়া কাস্টমার কেয়ার নম্বরের বদলে সবসময় অফিশিয়াল অ্যাপের ভেতরের হেল্প সেকশন ব্যবহার করুন।

৫. প্রতারণার শিকার হলে কালবিলম্ব না করে জাতীয় সাইবার হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০-এ কল করুন, cybercrime.gov.in ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানান এবং দ্রুত নিজের ব্যাঙ্ককে বিষয়টি অবহিত করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *