মণিপুরে ফের রক্তাক্ত সংঘাত: নাগা অধ্যুষিত এলাকায় জোড়া হামলায় শিশু সহ নিহত ৪

মণিপুরে ফের রক্তাক্ত সংঘাত: নাগা অধ্যুষিত এলাকায় জোড়া হামলায় শিশু সহ নিহত ৪

মণিপুরে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জাতিগত হিংসা। নাগা-সংখ্যাগরিষ্ঠ তামেনলং ও ননি জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের জোড়া হামলায় কুকি-জো সম্প্রদায়ের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী এবং এক গর্ভবতী নারীও রয়েছেন। এছাড়া হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে ছয় বছরের একটি শিশু।

১৯৯৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর কুকি-নাগা সংঘাতে নিহতদের স্মরণে পালিত ‘সাহনিত নি’ বা ‘কুকি কালো দিবস’-এর দিনই এই রক্তক্ষয়ী সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার তামেনলং জেলার এল টোলেন গ্রামে প্রথম হামলাটিতে লিংজাঙ্গাই সিংসিত ও তাঁর স্বামী সেইনেহ সিংসিত নিহত হন এবং তাঁদের ছয় বছরের ছেলে হেনমিসনাং গুরুতর আহত হয়। এরপর বিকেলে ননি জেলার লংপি গ্রামে দ্বিতীয় হামলায় রোয়েল গ্যাংটে ও জুলি সিংসন নামের এক পুরুষ ও এক নারী প্রাণ হারান। স্থানীয়দের দাবি, নিহত জুলি গর্ভবতী ছিলেন।

এল টোলেন গ্রাম কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য নাগা জঙ্গি গোষ্ঠী এনএসসিএন-আইএম (NSCN-IM) এবং জেডইউএফ-কে-কে (ZUF-K) দায়ী করেছে। তাদের অভিযোগ, বৃহত্তর নাগালিম এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কুকি-জো গ্রামবাসীদের পৈতৃক ভূমি থেকে উচ্ছেদ ও জাতিগতভাবে নির্মূল করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, কাইমাইয়ের একটি নাগা গ্রাম কর্তৃপক্ষও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সম্প্রদায় বিভাজনের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে।

মেইতেই-কুকি দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন সহিংসতার জেরে পাহাড়ি অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম প্রশ্নের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রাম কর্তৃপক্ষের তরফে অবিলম্বে স্বাধীন তদন্ত, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং দোষীদের গ্রেফতারের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *