কলকাতার বুকেই ‘অকাল বোধন’! রামায়ণ থিমে ১৩ ফুটের দশভূজা গণপতি এনে চমক সনাতনী সঙ্ঘের

পুজোপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস আর থিমের চমকে দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই উৎসবের আমেজে সেজে উঠেছে তিলোত্তমা। দিন দিন কলকাতার গণেশ চতুর্থীর উদযাপন আরও বর্ণময় ও জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে উঠছে। আজকাল শুধু সনাতন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয়, দুর্গাপুজোর আদলেই থিম-সংস্কৃতি, পৌরাণিক গল্পগাথা এবং ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলছেন কলকাতার পুজো উদ্যোক্তারা। অনেক মণ্ডপেই আবার উঠে আসছে সাম্প্রতিক সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবনার প্রতিফলন।
তেমনই এক অভিনব থিমের সাক্ষী থাকছে দক্ষিণ কলকাতা। বাঁশদ্রোণী সুবোধ পার্ক এলাকার ‘সনাতনী সঙ্ঘ’ গণেশ পুজো কমিটি ২০২৬ সালের উদযাপনে নিয়ে এসেছে ১৩ ফুটের এক বিশাল গণেশ প্রতিমা। তবে এই প্রতিমা আর পাঁচটা সাধারণ গণপতির মূর্তি নয়; তাদের মণ্ডপের মূল আকর্ষণ রামায়ণের ঐতিহাসিক থিম ‘অকাল বোধন’।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, রামায়ণের চিরন্তন মূল্যবোধ—যেমন ধার্মিকতা, কর্তব্যবোধ, গভীর ভক্তি এবং অধর্মের ওপর ধর্মের জয়—তুলে ধরতেই এই থিম বেছে নেওয়া হয়েছে। ১৩ ফুটের সুবিশাল মূর্তিটি এই প্রদর্শনীর কেন্দ্রবিন্দু। মণ্ডপে এসে দর্শনার্থীরা একদিকে যেমন আধ্যাত্মিক পরিবেশের ছোঁয়া পাচ্ছেন, তেমনই অনুভব করছেন ভারতীয় পৌরাণিক গল্পের নিখুঁত আবহ।
শাস্ত্র ও রামায়ণ অনুযায়ী, ‘অকাল বোধন’ বলতে দেবী দুর্গার অপ্রথাগত বা আসাময়ের আবাহনকে বোঝায়। লঙ্কাজয়ের উদ্দেশ্যে রাবণের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধে নামার আগে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র অধর্ম বিনাশের লক্ষ্যে দেবী দুর্গার অকাল বোধন ও পুজো করেছিলেন।
এই মণ্ডপের সবচেয়ে বড় চমক হলো গণপতির রূপায়ণ। ১৩ ফুটের ভগবান গণেশকে তাঁর মায়ের আদলে ‘দশভূজা’ বা দশ হাত বিশিষ্ট রূপে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। একদিকে সিদ্ধিদাতা গণেশের মহিমা এবং অন্যদিকে দশভূজা দুর্গার অসুরবধের শক্তি—এই দুইয়ের অপূর্ব মেলবন্ধন শুভ শক্তির জয় এবং অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
থিম ও ভক্তির এমন নান্দনিক রূপ দেখতে দক্ষিণ কলকাতার এই মণ্ডপে ইতিমধ্যেই পুজোপ্রেমীদের ভিড় জমতে শুরু করেছে। উৎসবের রঙে নিজেদের সংস্কৃতিকে রাঙিয়ে নেওয়ার শিল্পে যে তিলোত্তমা সত্যিই অতুলনীয়, এই আয়োজন যেন তারই আরও এক দারুণ প্রমাণ।