এলএসি-তে চিনা ফৌজের সংখ্যা হ্রাস! প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্টে নতুন তথ্য

নয়াদিল্লি: ভারত ও চিনের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (LAC) দীর্ঘ সামরিক উত্তেজনার আবহেই বড় খবর। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ২০২৫-২৬ বার্ষিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের পুরো সময় জুড়ে উত্তর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-র সেনা মোতায়েনে উল্লেখযোগ্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। তবে এই পরিস্থিতিতে বিন্দুমাত্র ঢিলেঢালা মনোভাব না দেখিয়ে সীমান্ত জুড়ে কঠোর নজরদারি ও সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখেছে ভারতীয় সেনা।
কমছে সেনাসংখ্যা, তবে মজুত ভারী অস্ত্র রিপোর্ট অনুযায়ী, এলএসি এবং চিনের ঐতিহ্যবাহী ট্রেনিং এলাকাগুলিতে চিনের প্রায় ১০টি ‘কম্বাইন্ড আর্মস ব্রিগেড’ মোতায়েন রয়েছে, যার সেনাসংখ্যা আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ হাজার। সেনার সংখ্যা কিছুটা কমলেও চিন এখনও সীমান্ত এলাকায় মিসাইল, আর্টিলারি, ট্যাঙ্ক ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মতো ভারী সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন রেখেছে। ফলে চিনের সেনা হ্রাস সত্ত্বেও কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয় নয়াদিল্লি।
ভারতের পাল্টা পরিকাঠামো ও কৌশল ২০২০ সালের পূর্ব লাদাখ সংঘাতের পর থেকেই সীমান্ত নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে ভারত। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত রসদ ও সেনা পৌঁছানোর জন্য বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (BRO) তৈরি করছে সব ঋতুতে যাতায়াতের উপযোগী রাস্তা। পাশাপাশি, ১৩,৭০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মুধ-নিয়োমা এয়ারফিল্ড এবং অরুণাচল প্রদেশের অনিনি হেলিপ্যাডের আধুনিকীকরণ লাদাখ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কূটনৈতিক স্তরে বরফ গলার সংকেত সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনাও বজায় রয়েছে। ২০২৫ সালে ডব্লিউএমসিসি (WMCC)-র ৩৩তম ও ৩৪তম বৈঠক এবং স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ স্তরের আলোচনা নতুন করে গতি পেয়েছে। ব্রিকস ও এসসিও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে চিনা নেতৃত্বের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং অক্টোবর মাসে ২৩তম কর্পস কমান্ডার স্তরের আলোচনা দুই দেশের বরফ গলাতে ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছে।
পরিশেষে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই রিপোর্টের মূল বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট—সীমান্তে চিনা সেনা কিছুটা কমলেও, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিজস্ব সামরিক আধুনিকীকরণ ও সীমান্ত সুরক্ষায় কোনো আপস করবে না ভারত।