‘বিচারের আশা ছাড়িনি’, ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে জেলে ‘তেহেলকা’র প্রাক্তন সম্পাদক

‘বিচারের আশা ছাড়িনি’, ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে জেলে ‘তেহেলকা’র প্রাক্তন সম্পাদক

গোয়া: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে অবশেষে আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন ‘তেহেলকা’ ম্যাগাজিনের প্রাক্তন প্রধান সম্পাদক তরুণ তেজপাল। প্রায় ১৩ বছরের পুরোনো এক যৌন হেনস্থার মামলায় বম্বে হাইকোর্ট তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিল। বম্বে হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানালেও কোনো স্বস্তি পাননি তিনি। গত ২৫ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট তাঁর রেহাই পাওয়ার আর্জি খারিজ করে দিয়ে তিন সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়।

জেলে ঠাঁই ও তেজপালের বক্তব্য আদালতের সেই নির্দেশ মেনে সোমবার গোয়ার মাপুসার অতিরিক্ত জেলা দায়রা আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন তরুণ তেজপাল। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে উত্তর গোয়ার কোলভেল সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়েছে। আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সংক্ষেপে বলেন, “আমরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছি। আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে সুবিচার পাব।”

মামলার পটভূমি ও জরিমানার নির্দেশ ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে তরুণের বিরুদ্ধে এই যৌন নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে এবং তিনি গ্রেফতার হন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর নিম্ন আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস করলেও, গত ৬ অগস্ট বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চের বিচারপতি নীলা গোখলে ও বিচারপতি অমিত জামসানদেকরের পর্যবেক্ষণ নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে দেয়। হাইকোর্ট তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ লক্ষ ২১ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয়, যার পুরো অর্থই নির্যাতিতার হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তেজপালকে আত্মসমর্পণ করতে হলো। আত্মসমর্পণের শংসাপত্র জমা পড়ার পর আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে তেজপালের সাজাকে চ্যালেঞ্জ করা মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা রয়েছে। হাইপ্রোফাইল এই মামলায় শীর্ষ আদালত কী রায় দেয়, এখন সেদিকেই চোখ সবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *