‘ছাদ সারাই মানে পুরো বাড়ি ভাঙা নয়!’ বেআইনি নির্মাণ মামলায় কঠোর অবস্থান উচ্চ আদালতের

‘ছাদ সারাই মানে পুরো বাড়ি ভাঙা নয়!’ বেআইনি নির্মাণ মামলায় কঠোর অবস্থান উচ্চ আদালতের

কলকাতা: ছাদ মেরামতের সামান্য অনুমতিকে ঢাল করে আস্ত পুরনো বাড়ি গুঁড়িয়ে বেআইনি বহুতল নির্মাণের অপরাধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের দেওয়া গৃহকর্ত্রীর দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ একযোগে বহাল রাখল উচ্চ আদালত।

ঘটনার নেপথ্যে উত্তর কলকাতার ১৬৭ নম্বর মুক্তারামবাবু স্ট্রিটের একটি পুরনো বাড়ি ঘিরে এই বিতর্ক। ২০১৪ সালে বাড়িটি কেনেন অর্চনা আগরওয়াল নামের এক মহিলা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কলকাতা পুরসভার (KMC) থেকে দোতলার জীর্ণ ছাদ পুনর্নির্মাণের অনুমতি বা স্যাংশন প্ল্যান পান তিনি। কিন্তু অভিযোগ, মেরামতের নাম করে মূল কাঠামোটিই সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়। ২০১৯ সালের এপ্রিলে পুরসভার আধিকারিকেরা এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন, পুরনো বাড়ির কোনো অস্তিত্ব নেই; বরং সেখানে প্রয়োজনীয় মাটি পরীক্ষা বা স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের শংসাপত্র ছাড়াই ঢালাই কলাম ও বিম দিয়ে বেআইনি বহুতল তোলার কাজ চলছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায় ঘটনায় পুর আইনের পাশাপাশি গিরিশ পার্ক থানাতেও মামলা হয়। নিম্ন আদালত অভিযুক্তকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি পুরো বেআইনি অংশটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন গৃহকর্ত্রী।

মামলার চূড়ান্ত শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতি উদয় কুমার রায় সাফ জানান, সামান্য মেরামতের অনুমতিকে কখনোই আস্ত বাড়ি ভেঙে নতুন কাঠামো গড়ার ছাড়পত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। ২০২৪ সালে যদি ওই নির্মাণকে বৈধ করার কোনো চেষ্টাও হয়ে থাকে, তবুও অপরাধের গুরুত্ব কমে না। সাজা মকুবের আবেদন খারিজ করে নিম্ন আদালতের কারাদণ্ড ও অবৈধ অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশই অপরিবর্তিত রাখেন বিচারপতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *